২০১৯-১১-১৩ ১৭:৩৪ বাংলাদেশ সময়
  • কাজেম গারিব আবাদি
    কাজেম গারিব আবাদি

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদি বলেছেন, এই সংস্থা প্রথম থেকেই ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রের ব্যাপারে যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করে আসছিল সে ব্যাপারে তেহরান স্বচ্ছ জবাব দিয়েছে এবং ওই কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য জানতে এ সংস্থাকে সহযোগিতা করেছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএ'র কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন। আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, "পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য আইএইএ'র পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন একটি স্বাভাবিক বিষয়। যেকোনো সমস্যা বা সন্দেহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাকে আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু তাই বলে পারস্পরিক এ সহযোগিতাকে রাজনৈতিক বিদ্বেষ চরিতার্থ করা কিংবা অপব্যবহারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"

আইএইএ গত সোমবার এই সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে ইরানের পরমাণু কর্মসূচীর ব্যাপারে প্রাথমিক প্রতিবেদন পেশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের ব্যাপারে এই সংস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তেহরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি কমিয়ে আনলেও তাদের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে।" এতে আরো বলা হয়েছে, "ইরান আইএইএ'র পরিদর্শকদের দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা প্রদান এবং পরিদর্শকদের কাজের সুবিধার্থে উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করেছে।" ‌ তবে আইএইএ'র নতুন এই প্রতিবেদনের অন্য অংশে দাবি করা হয়েছে, "এই সংস্থা একটি জায়গায় সামান্য কিছু ইউরেনিয়াম চিহ্নিত করেছে যে সম্পর্কে এরআগে ইরানের পক্ষ থেকে আইএইএকে জানানো হয়নি।"

স্মরণ করা যেতে পারে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত বছর ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছিলেন, ইরানের কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে যার মধ্যে একটি 'তোরকুয আবাদ' এলাকায় অবস্থিত। ইরানের পরমাণু বিশেষজ্ঞ হাসান মোহাম্মাদি বলেছেন, "এসব বক্তব্যের অধিকাংশই উস্কানিমূলক। কারণ ইরান একমাত্র দেশ যে কিনা পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলেছে। এর আগেও ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সম্পর্কিত নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।"

ইরান যখন চতুর্থ দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে ঠিক তখন সন্দেহ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এ ধরনের দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এসবের উদ্দেশ্য ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বহাল রাখা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইএইএ'র পক্ষ থেকে ইরানে অল্প কিছু ইউরেনিয়াম চিহ্নিত করার দাবি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর উস্কানিমূলক বক্তব্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা এবং চতুর্থ দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আইএইএ'র নতুন প্রতিবেদনে এমন সময় সন্দেহ সৃষ্টি করা হয়েছে যখন এ সংস্থার অস্থায়ী প্রধান করনেল ফেটুরি এর আগেও ইরানের গোপন পরমাণু স্থাপনা থাকার ব্যাপারে সন্দেহ করেছিলেন। তবে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে মন্তব্য করা ঠিক নয় বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩

 

ট্যাগ

মন্তব্য