২০১৯-১১-১৪ ১৭:১৪ বাংলাদেশ সময়
  • তেহরানে ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট
    তেহরানে ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষায় আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের মোকাবেলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সম্মুখ কাতারে রয়েছে। তিনি আজ রাজধানী তেহরানে ৩৩তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে গোটা মুসলিম বিশ্বের মূল ইস্যু। এই ইস্যুকে মুছে ফেলার জন্য আমেরিকা ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বিশ্বের মুসলমানরা মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা ফিলিস্তিন বিষয়টিকে মুছে যেতে দেবে না।

তেহরানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত ইসলামি ঐক্যসপ্তার সম্মেলনে ফিলিস্তিন ও বায়তুল মোকাদ্দাস রক্ষার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এ থেকে বোঝা যায়, ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণকে রক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর থেকেই ইরান ফিলিস্তিন ও বায়তুল মোকাদ্দাসকে সমর্থন দিয়ে এসেছে এবং এটিকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস পালনের ডাক দিয়েছে এবং প্রতিবছর বিশ্বের মুসলমানরা এ দিবস পালন করে।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি(র.) ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে চিরঞ্জীব করে রাখার জন্য এ সমস্যাকে আন্তর্জাতিক রূপ দান করেন এবং তিনিই প্রতি রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইমাম খোমেনির এ পদক্ষেপ ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও আমেরিকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সচেতন হওয়ার ক্ষেত্রে  ভূমিকা রাখে। ফলে ইসরাইল ও আমেরিকার বহু ষড়যন্ত্র এ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম জাতিগুলোর সচেতনতা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ আমেরিকা ও আপোষকামী কয়েকটি আরব দেশের সমর্থন নিয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তর, ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি নামক ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা উত্থাপন এবং আপোষকামী কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বিরাজমান গোপন সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনার উদ্যোগ এসব কিছুরই পেছনে অভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে আর তা হচ্ছে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে ভুলিয়ে দেয়া।

মুসলমানদের অভিন্ন শত্রু ইসরাইল ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই কয়েকটি আরব দেশ ও আমেরিকার সহযোগিতায় পশ্চিম এশিয়ায় ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি তারা ইসরাইলি ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার সচেতনতা ও মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "নতুন প্রজন্মের এটা জেনে রাখা উচিত আমেরিকা কখনোই মুসলমানদের ও এ অঞ্চলের জাতিগুলোর বন্ধু ছিল না এবং কখনো বন্ধু হবেও না। আমাদেরকেই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং আমাদেরকেই ফিলিস্তিন মুক্ত করত হবে।"

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

 

ট্যাগ

মন্তব্য