নভেম্বর ১৮, ২০১৯ ১৭:৩২ Asia/Dhaka

ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ-প্রয়োগের নীতি প্রবর্তনকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন সরকার ইরানি জনগণের সমর্থক বলে দাবি করেছে!

সম্প্রতি ইরানে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট শান্তিপূর্ণ অসন্তোষকে ভিন্ন রূপ দিতে বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একদল দুষ্কৃতকারী কোনো কোনো স্থানে সরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও জনগণের সম্পদের ওপর হামলা চালিয়ে এইসব সম্পদের ক্ষতি করে। হোয়াইট হাউজ এইসব ভাঙচুরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছে যে, মার্কিন সরকার ইরানি জনগণের সমর্থক! মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মুষ্টিমেয় এই দুষ্কৃতকারীদের সমর্থন জানিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছেন!

মার্কিন এই হস্তক্ষেপকামিতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের জনগণের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তথা অর্থনৈতিক সন্ত্রাস বজায় রেখেই ইরানিদের সমর্থক হওয়ার দাবিকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে এই পম্পেও বলেছিলেন যে, ইরানি জাতিকে নতজানু করতে তাদেরকে অবশ্যই ক্ষুধার শিকার করতে হবে!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মাঝে মাঝে দাবি করেন যে ইরানের জনগণকে তিনি নাকি ভালোবাসেন! অথচ তিনি ইরানি জাতিকে 'সন্ত্রাসী' বলে দাবি করেছিলেন এবং ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে পরমাণু-সংক্রান্ত সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাশাপাশি নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞার জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। 

অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও দাবি করতেন তারাও ইরানি জনগণের বন্ধু ও ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সমর্থক! অথচ মার্কিন সরকারই ইরানের ব্যাপক জনপ্রিয় মোসাদ্দেক সরকারকে উৎখাত করেছিল। মার্কিন সরকারগুলোই স্বৈরতান্ত্রিক ও রাজতান্ত্রিক পাহলভি শাসকগোষ্ঠীর গণ-বিচ্ছিন্নতা দেখার পরও জনপ্রিয় ইসলামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইরানের ইসলামী সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ শত্রুতা বজায় রেখেছে।

 ইরানের গণ-নির্বাচিত সরকারগুলোকে উৎখাত করে সেখানে পদলেহী ও নতজানু সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য মার্কিন ইঙ্গিতেই ইসলামী ইরানের ওপর সাদ্দামকে দিয়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ৮ বছরের যুদ্ধ এবং পরমাণু ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা। সন্ত্রাসী মোনাফেক গোষ্ঠীসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়ে ইরানের উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতাসহ লক্ষাধিক ইরানিকে হতাহত করেছিল মার্কিন সরকারগুলো।

ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যায়ও হাত ছিল মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। তাই ইরানি জনগণের বন্ধু হবার মার্কিন দাবি যে মুরগির প্রতি শিয়ালের ভালবাসা দাবির মতই হাস্যকর তা সবার কাছেই স্পষ্ট।

ইরানের জনগণের জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের মায়াকান্না বা কুম্ভীরাশ্রু দেশটির জনগণকে কখনও ধোঁকায় ফেলবে না। মার্কিন সরকার যদি ইরানের জনগণের কল্যাণ চাইত তাহলে দেশটির ওপর ওষুধ-নিষেধাজ্ঞার মত অমানবিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখতে পারত না ওয়াশিংটন। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মাঝে মধ্যে দাবি করেন যে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নিঃশর্ত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আবার কখনও কখনও বলেন যে, ১২টি দাবি পূরণ করা হলেই কেবল তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে মার্কিন সরকার। এই পম্পেও দাবি করেছিলেন, ইরানের উচিত সৌদি আরব থেকে মানবাধিকার শেখা!  

মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়ই বলেন যে ইরানের স্বাধীনচেতা ইসলামী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত বা নতজানু করতে তারা ইরানি জনগণকে সর্বোচ্চ মাত্রায় দরিদ্র করতে চান যাতে তারা এক সময় ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে! কিন্তু এতসব মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানি জনগণ ইসলামী রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ় আনুগত্য বজায় রাখার কারণেই হয়ত ট্রাম্প গোটা ইরানি জাতিকেই সন্ত্রাসী বলার মত ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। 

মার্কিন বিশেষজ্ঞ মহল ও পত্র-পত্রিকাগুলোই স্বীকার করছে যে অতীতের সব মার্কিন সরকারের ইরান-বিদ্বেষী নীতিগুলো ব্যর্থ হয়েছে। গত চল্লিশ বছর ধরে-চলা এইসব নীতি মার্কিন সরকারের জন্য বরং বুমেরাং হচ্ছে। ইরানি জনগণ ও সরকারের প্রতিরোধ ট্রাম্পকেও চরম ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ আস্বাদনে বাধ্য করবে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৮

ট্যাগ

মন্তব্য