ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯ ১৯:৩৩ Asia/Dhaka
  • জোসেফ বোরেল
    জোসেফ বোরেল

ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশ অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় পৌঁছার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু গত বছর মে মাসে আমেরিকা এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু তারপরও ইউরোপ পরমাণু সমঝোতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে এটিকে রক্ষার কথা বলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এক টুইটার বার্তায় পরমাণু সমঝোতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, "সারা বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পরমাণু অস্ত্রের বিস্তাররোধ ঠেকাতে পরমাণু সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সবার দায়িত্বশীল আচরণ।" ভিয়েনায় পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের বৈঠকের পর তিনি তার বার্তায় এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকেই জোসেফ বোরেল পরমাণু  সমঝোতা রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত এবং বহুবার পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন একতরফা নীতির সমালোচনা করেছেন। গত অক্টোবরে তিনি এটিকে রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং উত্তেজনা ঠেকাতে সবার উচিত যেকোনো মূল্যে পরমাণু সমঝোতাকে রক্ষা করা।

জোসেফ বোরেলের এসব বক্তব্যের পর আশা করা হচ্ছে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে এই সংস্থা বদ্ধপরিকর।

গত বছর ৮মে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ইউরোপ পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা করলেও বাস্তবে তারা মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর ইরানও কৌশলগত ধৈর্যের অবসান ঘটায় এবং এ সময়ের মধ্যে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। এক বছর পর ইরানও পরমাণু সমঝোতার ৩৬ ও ২৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান এ পর্যন্ত চার দফায় পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে তেহরান বলেছে, প্রতিপক্ষরা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে তাহলে ইরান আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

এ অবস্থায় জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উপেক্ষা করে উল্টো ইরানকে হুমকি দিচ্ছে এবং পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অবশ্য ইউরোপীয়রা ভাল করেই জানে যে তেহরান কোনো হুমকি ধমকি কিংবা ভয়ভীতির কাছে মাথা নত করবে না। তাই ইউরোপ যদি সত্যিই পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে চায় তাদেরকেও প্রতিশ্রুতি পালন ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।#   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯

ট্যাগ

মন্তব্য