ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ ১৬:৫১ Asia/Dhaka
  • তুরস্কে ‘হার্ট অব এশিয়া-ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়া’ শীর্ষক অষ্টম সম্মেলন
    তুরস্কে ‘হার্ট অব এশিয়া-ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়া’ শীর্ষক অষ্টম সম্মেলন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, বিদেশি সেনারা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা করছে না। তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘হার্ট অব এশিয়া-ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়া’ শীর্ষক অষ্টম সম্মেলনে দেয়া ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে গিয়ে এ কথা বলেন।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আমেরিকা কখনোই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কিংবা সন্ত্রাসীদের উৎখাতের কোনো চেষ্টাই করেনি বরং আফগানিস্তানসহ পশ্চিম এশিয়ায় গত কয়েক দশকে যুদ্ধ ও সংকট সৃষ্টির জন্য তারাই দায়ী। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কেবলমাত্র তালেবানসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন দল ও সংগঠনের অংশগ্রহণে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী সেদেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য সব রকম  সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগানো উচিত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের অন্য অংশে এ অঞ্চলে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের হুমকির কথা উল্লেখ করেন। তিন বলেন, "আফগানিস্তানে আইএস সন্ত্রাসীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতার ফলে বিপদজনক পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না। যেমনটি ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি ধ্বংস ছাড়া আর কিছু বয়ে আনেনি। এ অবস্থায় এসব সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তান ও মধ্যএশিয়ায় প্রভাব বিস্তার কারো জন্যই শুভকর  হবে না। আরো বিপর্যয় রোধের জন্য এখনই প্রয়োজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া।"

জাওয়াদ জারিফ

এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বহুবার বলেছেন, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা আমেরিকার নেই। সর্বোচ্চ নেতার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমেরিকা গত ১৪ বছর ধরে আফগানিস্তানে অবস্থান করলেও দেশটির জনগণের জন্য তারা কোনো নিরাপত্তা দিতে পারেইনি বরং পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে।

এ অবস্থায় এ অঞ্চলে নিরাপত্তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান সব রকম সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আফগানিস্তানে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহায়তার পাশাপাশি দশকের পর দশক ধরে ইরানে আশ্রয় নেয়া আফগান শরণার্থীদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য অবদান রেখে চলেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও আফগানিস্তানকে সহায়তায় ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য ইরানের বন্দর আব্বাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পানি সীমায় সংযুক্ত হতে ইরান সহায়তা করেছে। ইরানের চ'বাহার বন্দর থেকে আফগানিস্তান হয়ে মধ্যএশিয়ার দেশগুলোকে সংযুক্ত করে পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য রেল ব্যবস্থাও প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এই যোগাযোগ পথ সমগ্র এই অঞ্চলে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। 

এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে ইস্তাম্বুল সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের স্বচ্ছ অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০

 

ট্যাগ

মন্তব্য