জানুয়ারি ১৩, ২০২০ ১৮:২০ Asia/Dhaka
  • স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কাতারের আমিরের সাক্ষাত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকা ও তার বন্ধুদের ‘নীতিভ্রষ্ট আচরণের’ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ধরনের অপতৎপরতার প্রভাব রুখে দিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিকল্প নেই। তিনি তেহরানে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানিকে দেয়া সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কাতারের সঙ্গে তার দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্পর্কে বলেন, দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আশানরূপ নয়। তিনি বলেন, যারা আটলান্টিকের ওই প্রান্ত থেকে এসে এ অঞ্চলে পাড়ি জমিয়েছে তারা কখনোই  চায় না এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিস্তার ঘটুক। কিন্তু আমাদের উচিত বিদেশীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ না দেয়া।

এ সাক্ষাতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে এ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারে আমরা আগ্রহী এবং আমরা মনে করি এ দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা হওয়া জরুরি। এর আগে কাতারের আমির ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গেও বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এ সাক্ষাতে উভয় নেতা এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ইরান ও কাতার দুটি প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র এবং তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশই এ অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস কামনা করে। ইরান অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এ অঞ্চলে সৃষ্ট উত্তেজনা দূর করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু যে কারো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে মোটেও দ্বিধা করবে না। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ইরান খুবই গুরুত্ব দেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, কয়েকটি দেশের ভুল নীতি ও নির্বুদ্ধিতার কারণে এ অঞ্চলে সংকট তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে কাতারও তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ জল, স্থল ও আকাশ পথে কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু কাতারসহ প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের পক্ষপাতী ইরান। তেহরান চায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ অঞ্চলে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কেবল উত্তেজনা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় এ পর্যন্ত তাদের সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতে তাদের কি লাভ হয়েছে? মার্কিন উপস্থিতি এ অঞ্চলে বরং নৈরাজ্য ও নিরাপত্তাহীনতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ অবস্থায় কাতারের আমিরের ইরান সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩

ট্যাগ

মন্তব্য