জানুয়ারি ১৭, ২০২০ ১৭:২৬ Asia/Dhaka
  • তবুও ইরাক ছাড়বে না আমেরিকা: বাগদাদকে ওয়াশিংটনের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের আবু মাহদি আল মুহান্দেসি শহীদ হওয়ার পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে ইরাকের সংসদে একটি বিল পাশ করা হয়। কিন্তু তারপরও মার্কিন সরকার ইরাকে তাদের সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।" তিনি আরো বলেন, "আমরা এখনো এ ব্যাপারে ইরাকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের সেনারা আপাতত সেখানেই থাকবে। এমনকি পশ্চিম এশিয়ায়ও আমাদের উপস্থিতি বজায় থাকবে।"  পেন্টাগনের মুখপাত্র আরো দাবি করেন, "খুব শিগগিরি আমরা ইরাকে মার্কিন সেনা স্থানান্তরের কাজ শুরু করব এবং সিরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযান বন্ধ হবে না।"

এর আগে সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছিল, ইরাকি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মার্কিন সেনারা আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে। তবে ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আব্দুল করিম খালাফ মার্কিন সেনাদের এ ধরণের অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "ইরাকি  সেনাবাহিনীর প্রধান মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে একজোট হয়ে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়নি।'

পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যান

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন সেনা বহিষ্কারের ব্যাপারে ইরাকি পার্লামেন্টে যে বিল পাশ হয়েছে তা ছিল আমেরিকার জন্য অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক। বিল পাশের সাথে সাথেই তারা এটিকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানায়। আমেরিকা দাবি করে ইরাকের স্বার্থ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাকের কর্মকর্তাদেরকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন যাতে তারা সেনা বহিষ্কারের ব্যাপারে পার্লামেন্টে পাশ হওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করে।

তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোরজবরদস্তির আশ্রয় নিয়েছেন এবং যেভাবেই হোক ইরাকে সেনা মোতায়েন রাখবেন। মার্কিন সেনা বহিষ্কার করা হলে ট্রাম্প প্রথমে ইরাকের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তিনি অনেকটা গায়ের জোরে বলেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি এও দাবি করেন আলোচনার টেবিলে ইরাকি কর্মকর্তারা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

এদিকে, ওয়াশিংটন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদিকে হুশিয়ার করে দিয়েছে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কার করা হলে আমেরিকায় ইরাকের সমস্ত অর্থ সম্পদ জব্দ করা হবে। হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা  রবার্ট উব্রায়ান বলেছেন, "আমেরিকা যখন ইচ্ছে করবে কেবল তখনই ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে তার আগে নয়।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব হুমকি ও বক্তব্য তেকে বোঝা যায়, ইরাক ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। ধারণা করা হচ্ছে কাসেম সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল মোহান্দেসিকে হত্যার পর ইরাকের ওপর আধিপত্য পাকাপাকি করার কাজ বাস্তবায়ন করতে আমেরিকা বদ্ধ পরিকর। তবে ইরাকের জনগণ যেভাবে দিন দিন মার্কিন বিরোধী হয়ে উঠছে তাতে আমেরিকার এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন এত সহজ হবে না বলেই পর্যবেক্ষকরা  মনে করছেন।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭

ট্যাগ

মন্তব্য