ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ

'পশ্চিম এশিয়ায় দখলদার ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ ফ্রন্টের কেন্দ্রে এখন ইরান আর একা নয়। বরং এ প্রতিরোধের সীমানা লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন থেকে লেবাননের হিজবুল্লাহ আন্দোলন পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।'

ইয়েমেনের আল-মাসিরা টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথাটি বলেছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ। তিনি আরো বলেছেন, 'পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারের জন্য প্রতিরোধ শক্তিগুলো এবং মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'

দক্ষিণ লেবাননের প্রতিরোধ ফ্রন্ট সবসময় দখলদার ইসরাইল বিরোধী সংগ্রামের দৃষ্টান্ত বা আদর্শ হয়ে আছে যা কিনা ১৯৮২ সাল থেকে এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০০ সালে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনাদের লজ্জাজনক পলায়ন, ২০০৬ সালে ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়, ২০০৯ সালে গাজায় ২২ দিনের যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইলের ব্যর্থতা এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে গাজায় ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া ৫১ দিনের যুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তিগুলোর সাফল্যের কথা উল্লেখ করা যায়।

লেবাননে যখন ৩৩ দিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয় তখন অনেক বিশ্লেষক হিজবুল্লাহ নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ শক্তির বিজয়ের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, এ অঞ্চলের সামরিক ও রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে এবং তা হিজবুল্লাহর অনুকূলে চলে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ওই যুদ্ধে লেবাননের জনগণের বিজয়ে শুভেচ্ছা বাণীতে বলেছিলেন, 'লেবাননের জনগণ নিজেদের সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছে। শত্রুরা ভুল হিসাব নিকাশ করে ভেবেছিল হামলা চালিয়ে তারা সবচেয়ে দুর্বল শক্তিকে নিশানা বানিয়েছে  এবং এ অঞ্চলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। কিন্তু লেবাননের জনগণ ও তাদের বিচক্ষণ নেতারা শত্রুকে চপেটাঘাত করেছে।'

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এসব যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইসরাইলি সেনারা আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। কারণ এতো দিন তারা প্রচার চালাতো তাদেরকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। গত ৮ জানুয়ারি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার বদলা হিসেবে ইরানও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যা এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর জন্য নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে। এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান অবস্থা থেকে বোঝা যায় এ অঞ্চলে দখলদারদের মোকাবেলায় প্রতিরোধ শক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইরাকে আইএস সন্ত্রাসীদের পতন, সিরিয়ায় প্রতিরোধ শক্তির বিজয়, ইয়েমেনে আনসারুল্লাহর ধারাবাহিক বিজয় প্রতিরোধ শক্তিগুলোর সাফল্যের বড় দৃষ্টান্ত।

ইরানে অবস্থিত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম মোহাম্মদ আল দেইলামি তেহরানে শহীদ জেনারেল সোলাইমানি উপলক্ষে এক সেমিনারে প্রতিরোধ শক্তির ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে এবং আমরা দেখিয়ে দেব প্রতিরোধ ফ্রন্ট কাতখানি শক্তিশালী

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা একটি অধ্যায়ের শেষ এবং বিজয়ের পথে নতুন অধ্যায়ের শুরু মাত্র। এ বিজয়ের জন্য প্রয়োজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শয়তানিমূলক পরিকল্পনা ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান।#

  পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫

ট্যাগ

মন্তব্য