এপ্রিল ২৪, ২০২০ ১৮:২৭ Asia/Dhaka
  • হাজিযাদে ও তার কয়েকজন সহযোগী (ফাইল ফটো)
    হাজিযাদে ও তার কয়েকজন সহযোগী (ফাইল ফটো)

​​​​​​​ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে বলেছেন, ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পাল্টা হামলা চালাত তাহলে প্রথম ধাপেই এ অঞ্চলে ৪০০টি মার্কিন অবস্থানে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালাত ইরান।

তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের দুই নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তার ওই সাক্ষাৎকার আজ (শুক্রবার) আবারও পুনঃপ্রচার করা হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে বলেছেন, 'গত জানুয়ারি মাসে আমরা ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ভেবেছিলাম মার্কিনীরা পাল্টা হামলা চালাবে এবং সেজন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। নতুন কোনো মার্কিন হামলার জবাবে আমরা প্রথম ধাপেই এ অঞ্চলে মার্কিনীদের মোট ৪০০টি অবস্থানে তাৎক্ষণিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর সাহস দেখায়নি।' ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের কুদস্ ব্রিগেডের প্রধান জেনারে কাসেম সোলাইমানিকে বাগদাদ বিমানবন্দরের পাশে হত্যা করার পর ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রবল হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানকে আগাম হুমকি দিয়ে বলেছিল, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালালে দেশটির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ ৫২টি অবস্থানে  আক্রমণ করবে আমেরিকা। 

ইরান এখন একটি পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং আমেরিকা বা তার চেয়েও বড় কোনো শক্তি ইরানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে।

তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের দুই নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলকে ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানের অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি এত দ্রুত গতিতে উন্নতি লাভ করছে যে, বিশ্বের কোনো দেশ আর ইরানকে হুমকি দেয়ারও সাহস দেখাবে না।

জেনারেল হাজিযাদে’র নেতৃত্বাধীন ডিভিশন সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে একটি সামরিক কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের পর তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন। গত বুধবার ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির রকেট দিয়ে ‘নূর-১’ নামের উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠায় এবং এটি ভূপৃষ্ঠের ৪২৫ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এই উপগ্রহ প্রতি ৯০ মিনিটে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে।

হাজিযাদে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিগুলোকে মার্কিন ব্যর্থতাগুলোকে ধামাচাপা দেয়ার ও দেশটির ঘরোয়া সংকটের দিক থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর  প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এখন যে কোনো স্থান থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম বলে তিনি জানান। ইরানের নিজস্ব নতুন এই কৃত্রিম উপগ্রহ সফলভাবে কক্ষপথে যুক্ত হওয়ায় মার্কিন সরকারসহ পাশ্চাত্য স্তম্ভিত হয়ে গেছে বলে হাজিযাদে মন্তব্য করেন। নতুন এ কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের ফলে মহাকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে ইরানের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তি বিকাশের পথে আর কোনো বাধা থাকলো না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

 এদিকে মহাকাশে ইরানের নুর উপগ্রহ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে মার্কিন ডেমোক্রেট দলের সিনেটর ক্রিস মারফিসহ মার্কিন কর্মকর্তাদেরই কেউ কেউ স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের কুদস্ ব্রিগেডের প্রধান জেনারে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পর থেকে ইরান এ অঞ্চলে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন অবস্থান আগের চেয়েও দুর্বল হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৪  

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য