মে ০২, ২০২০ ১৫:৫৮ Asia/Dhaka
  • 'পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে মার্কিন বাহিনীর ওপর নজর রাখবে ইরান'

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি বলেছেন,আগেভাগে সতর্ক করা সত্ত্বেও ইরানি মহড়া এলাকায় মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়ায় পারস্য সাগরের সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে।

আইআরজিসি'র নৌবাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহরকে হয়রানি করেছে বলে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে মার্কিন বাহিনীর ওপর নজর রাখবে ইরান।   

তিনি জানান, আইআরজিসি'র নৌবাহিনীর পূর্ব ঘোষিত প্রশিক্ষণ এলাকায় মার্কিন বাহিনী হঠকারী ভাবে ঢুকে পড়লে তাদেরকে অবিলম্বে ওই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরকে ইরান নিজের ঘর হিসেবে মনে করে এবং এখানে কখনই কোনও উত্তেজনা চায় না। তিনি আরও বলেন, ইরানের অধিকারের প্রতি অমর্যাদা দেখিয়ে ইরানি মাছধরা জাহাজগুলোকে মার্কিনিরা বাধা দেবে বা উপকূলীয় তেল স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়বে তা কখনওই আইআরজিসি মেনে নেবে না। কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি। সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা করেছিল মার্কিন এক যুদ্ধজাহাজ। এ ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ভারতীয় ২ নাবিক।

অ্যাডমিরাল তাংসিরি বলেন, নৌপথে চলাচলের আইন মার্কিনিরা মানে না। সেখানে খুশি সেখানে কেনও মার্কিনিদের সামরিক মহড়া চালাতে দেয়া হবে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরে কৌশলগত পানি পথে নিজেদের অবৈধ উপস্থিতিকে আইনি রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। 

গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যে আইআরজিসি'র ১১ জলযান পারস্য উপসাগরে মার্কিন ছয় যুদ্ধজাহাজকে হয়রানি করেছে।

অ্যাডমিরাল তাংসিরি দৃঢ়তার সঙ্গে মার্কিন এ অভিযোগ নাকচ করে দেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে মার্কিন বাহিনীর ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অবশ্য এর আগে,   'হলিউডি গাল-গল্প' হিসেবে আখ্যায়িত করে  মার্কিন অভিযোগকে বর্ণনা নাকচ করে দিয়েছিল আইআরজিসি।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি নৌবাহিনীর স্পিডবোট বহরকে, তার ভাষায়, 'গুলি করে ভূপাতিত' করার নির্দেশ দেন। স্পিডবোট আকাশ দিয়ে উড়ে আসে কিনা তার এ নির্দেশের পর অনেকেই সে প্রশ্নও তুলেছেন। তবে তার এমন নির্দেশের জবাবে গত সপ্তাহে, আইআরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেন, ইরানি জলযানকে হয়রানি করা হলে ইরানি বাহিনী সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।

 পার্সটুডে/মূসা রেজা/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ