জুলাই ০৯, ২০২০ ১৬:২৩ Asia/Dhaka
  • পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-সিরিয়া সামরিক চুক্তির গুরুত্ব: দুর্বল হয়ে পড়বে আমেরিকা

পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ ইরান ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সার্বিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সই হয়েছে।

দামেস্ক সফররত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি এবং সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান লে. জেনারেল আলী আব্দুল্লাহ আইয়্যুব গতকাল (বুধবার) এ চুক্তিতে সই করেন। ইরান ও সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দু’দেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে এ চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দু’দেশের সামরিক প্রতিনিধিদল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরিয়ায় তৎপর সব ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোর হাতে দমন করা এ চুক্তি স্বাক্ষরের অন্যতম লক্ষ্য।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও সিরিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোসহ আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের মতো অভিন্ন শত্রুর মোকাবেলা করছে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় সংকট সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের মাধ্যমে দেশটির বৈধ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালানো হয়েছিল যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও নয়া মধ্যপ্রাচ্য গঠনে মার্কিন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে আর কোনো বাঁধা না থাকে। বর্তমানে সিরিয়া সংকটের নয় বছর অতিক্রান্ত হলেও আমেরিকা ও তার মিত্ররা অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েও সিরিয়ার ব্যাপারে তারা কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

বাস্তবতা হচ্ছে, সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইরান ও সিরিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা মার্কিন স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।  তাই এখন তারা ভিন্নপথে সিরিয়াকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে যে দেশটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্পাত কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরান ও সিরিয়ার সর্বাত্মক সহযোগিতা পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সব হিসাব নিকাশ এলোমেলো করে দিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে তেহরান ও দামেস্কের মধ্যে সামরিক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সার্বিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্বকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইএস সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়ার পেছনে আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ার  আসাদ সরকারের পতন ঘটানো এবং ইরানের কাছ থেকে সিরিয়াকে দূরে সরিয়ে রাখা যাতে  ইসরাইল বিরোধী ফ্রন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এতেও ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

যাইহোক ইরান ও সিরিয়ার  সহযোগিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সামরিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যাতে মার্কিন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা যায়। ইরানের সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন সিরিয়ার ব্যাপারে আমেরিকা হতাশ হয়ে পড়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এ দুদেশের সহযোগিতা বিস্তারের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও সিরিয়ার মধ্যকার সামরিক চুক্তির ফলে পশ্চিম এশিয়ায় এ দুদেশের শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এই শক্তির অর্থ হচ্ছে আমেরিকা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯    

ট্যাগ

মন্তব্য