সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ ১৬:১১ Asia/Dhaka

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সাল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও চলতি বছর ১৮ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অবসানের কথা রয়েছে। ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা নবায়নে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার পর হুমকি দিয়েছে তেহরানের সঙ্গে যারাই অস্ত্র ব্যবসা করবে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক যেকোন অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানি যদি ইরানের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে তাহলে ওয়াশিংটন ওইসব কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি অ্যলিউত অব্রামায এ ব্যাপারে বলেছেন, ইরানবিরোধী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক যে কোন অস্ত্র কোম্পানি যদি ইরানের সঙ্গে সহযোগিতার পদক্ষেপ নেয় তাহলে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এমন সময় তিনি এই হুমকি দিলেন যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ কোনো না কোনো উপায়ে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার চেষ্টা করবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ধরনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইরানের ব্যাপারে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে এবং যেকোন মূল্যে ইরানবিরোধী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। ওয়াশিংটন আশা করেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নবায়ন করা যাবে। কিন্তু অন্য দেশের বিরোধিতার কারণে আমেরিকার সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে শুধু যে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহৎ শক্তিগুলো অর্থাৎ চীন ও রাশিয়া মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে তাই নয় এমনকি নিরাপত্তা পরিষদে ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও ইরানবিরোধী মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেয়নি। ইতালির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংকের প্রধান নাতালি তুচি নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে আমেরিকার এই ব্যর্থতাকে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ ব্যর্থতার পর মার্কিন সরকার এখন বিশ্বের অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলোকে ইরানের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পরিণতি ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিল।

তবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার কারণে বহু বছর ধরে ইরান এক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং নিজেরাই বহু ধরনের অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম। ইরান নিজস্ব প্রচেষ্টায় শক্তিশালী স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনী গড়ে তুলেছে। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক্স যুদ্ধ সামগ্রীতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ কারণে ইরান অন্য কোনো দেশের অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল নয় বরং নিজেই অস্ত্র রপ্তানির যোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রকৃতপক্ষে ওয়াশিংটন এ কারণে চিন্তিত যে ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বিশ্বের বাজারে তেহরান জায়গা করে নেবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭

ট্যাগ

মন্তব্য