জানুয়ারি ০৮, ২০২১ ১২:৪১ Asia/Dhaka

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন: ১৯৭৮ সালে কোমে সংঘটিত অভ্যুত্থান কোনো আবেগ কিংবা উত্তেজনা ছিল না, এটি ছিল একটি ধর্মীয় অভ্যুত্থান। কোমের গণঅভ্যুত্থান বার্ষিকীতে আজ জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ওই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন: কোমের গণ অভ্যুত্থান ছিল মার্কিন বৃহৎ মূর্তির ওপর ইব্রাহিমি কুঠারের প্রথম আঘাত।

আজ (শুক্রবার) ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় চ্যানেল ওয়ান, চ্যানেল নিউজসহ রেডিওতে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন: যারা মনে করে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি হলে ইরানের পরিস্থতির উন্নতি হবে তাদের উচিত বিপ্লব পূর্ববর্তীকালের ইরান-মার্কিন সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া।

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার ব্যাপারে আমেরিকার স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ২০২১ সালে সেই পরিস্থিতি মার্কিন মুলুকেই ঘটেছে। তিনি বলেন ইরানের উপস্থিতিই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। সিরিয়া ও ইরাকসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে তা প্রমাণ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার মধ্যেই আমেরিকা তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত দেখতে পায়, অবশ্য যদি তাদের পক্ষে সেরকম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব হয়। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী

আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন: কোটি কোটি মার্কিন নাগরিক অভভুক্ত, বেকার এবং গৃহহীন। এ পরিস্থিতিতে অবাক হবার কিছু নেই। অবাক হবার বিষয় হলো এখনও অনেকেই আমেরিকাকে তাদের ক্বেবলা মানে।

অবরোধ সম্পর্কে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণে বলেন: ইরানের অর্থনীতিকে এমন শক্তিশালী করতে হবে যাতে রাজনৈতিক খেলার কোনো প্রভাব তার ওপর না পড়ে। তিনি বলেন: ইরানের সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বলদর্পী শক্তিগুলোর বিরোধের কারণ হলো এ অঞ্চলে ইরানের উপস্থিতি এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিসহ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ইত্যাদি। এ কারণেই তারা ইরানের ওপর শত্রুতামূলকভাবে অন্যায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। সর্বোচ্চ নেতা বলেন: পশ্চিমা ফ্রন্ট এবং ইরানের শত্রুদেরকেই ইরানের সঙ্গে তাদের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ এবং শত্রুতাপূর্ণ আচরণ অর্থাৎ অবরোধের পরিসমাপ্তি ঘটানোর পদক্ষেপ অবিলম্বে নিতে হবে। অবরোধ না তুলে আমেরিকা যদি পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসে সেটা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী মন্তব্য করেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইরানের জাতীয় সংসদে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান’ নামে যে বিল পাস করা হয়েছে তাকে সঠিক, সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং বুদ্ধিবৃক্তিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ২০ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরার কাজ শুরু হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: আমেরিকা পরমাণু সমঝোতায় কবে ফিরবে, আদৌ ফিরবে কি ফিরবে না-সে ব্যাপারে আমাদের কোনো তাড়াহুড়া কিংবা মাথাব্যথা নেই।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

করোনা'র ভ্যাকসিন সম্পর্কে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন: ইরানে আমেরিকা ও ব্রিটিশ ভ্যাকসিন আমদানি নিষিদ্ধ। তিনি বলেন আমেরিকা যদি ভ্যাকসিন তৈরি করতেই পারতো তাহলে তাদের দেশের অভ্যন্তরে একদিনে চার হাজার মানুষ মারা যাবার মতো বিপর্যয় সৃষ্টি হতো না। আমেরিকার ওপর আস্থা রাখা দুরূহ ব্যাপার, তারা ভ্যাকসিন দেওয়ার নামে বিভিন্ন দেশের মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষাও চালাতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষণ চলাকালে আল-জাজিরা, আল-মায়াদিন, আল-আলম এবং প্রেস টিভি তাদের নির্ধারিত সম্প্রচার বন্ধ করে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ভাষণ সরাসরি প্রচার করে।

ফার্সি ১৩৫৬ সালের ১৯ দেই মোতাবেক ১৯৭৮ সালের ৯ জানুয়ারিতে কোমে শাহ বিরোধী এক গণ-অভ্যুত্থান হয়। ওই অভ্যুত্থানে শাহী জান্তার গুলিতে মারা যায় বহু মানুষ। এই ঘটনার জের ধরে অতি দ্রুত সমগ্র ইরানে স্বৈরাচারী শাহের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার এক বছর পর গণবিক্ষোভের মুখে সফল হয় ইসলামী বিপ্লব। 

ঐতিহাসিক এই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে প্রতিবছর ইসলামী বিপ্লবের নেতা কোমে অবস্থিত ইমাম খোমেনি (রহ) হোসাইনিয়াতে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাঁর ভাষণ জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।#

পার্সটুডে/এনএম/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ