জানুয়ারি ১৬, ২০২১ ২০:০৮ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মাত্র পাঁচ দিন ক্ষমতা রয়েছেন। এতো স্বল্প সময়ের মধ্যেও তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির ব্যর্থ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের সমুদ্র শিল্প সংস্থা, মহাকাশ ও গবেষণা সংস্থা  এবং আকাশ প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থাকে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইরানের প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ছাড়া তিনি ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি এমন কোনো উপায় বা মাধ্যম নেই যা তিনি ব্যবহার করেননি। ইরানের অর্থনৈতিক সেক্টরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তিনি নিষেধাজ্ঞা দেননি। এমনকি এ কয় বছরে যেসব দেশ এসব নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে চায়নি তাদের বিরুদ্ধেও যেমন রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোর ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে মার্কিন প্রশাসন তাদের ইচ্ছামতো চুক্তি সই করতে ইরানকে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়েছে।

কিন্তু তবুও ইরান তার অবস্থানে অটল রয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানকে কাবু করার সব চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ইনসাইড এ্যারাবিয়া পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে বলেছে, দুই বছর ধরে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপরও বাণিজ্য, নিরাপত্তা এমনকি মানবাধিকারের মতো নানান বিষয়কে অজুহাত করে মার্কিন সরকার এখনো ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলেছে। প্রকৃতপক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব না দিয়ে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছেন। এ ব্যাপারে রুশ জ্বালানিমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নওবাক বলেছেন, ওয়াশিংটনের নীতির বিরোধী দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সারা বিশ্ব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় সারা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ কোনো কোনো দেশের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। করোনা পরিস্থিতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইরানেও পড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বাইরে থেকে কোনো ওষুধ আমদানি করতে না পারায় দেশটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর মাত্র কয়েক দিন ক্ষমতায় আছেন।  এরপরও তিনি ইরানের পিছু ছাড়ছেন না। ইরানের ব্যাপারে ব্যর্থতা ট্রাম্প কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ