জানুয়ারি ২৩, ২০২১ ১৬:৫৮ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বাইডেনের প্রতি জারিফের পরামর্শ

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পররাষ্ট্র নীতিতে সবচেয়ে বড় কিছু ভুল করেছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে উগ্র নীতি নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ইরানি জাতিকে তিনি নতজানু করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা ধ্বংসের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু এসবের কোনোটিতেই তিনি সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। ট্রাম্প ভাবতেও পারেননি যে এতো নিষেধাজ্ঞার পরও ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত তার নীতি ভুল প্রমাণিত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এক টুইটবার্তায় আমেরিকার বাইডেন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থ নীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চুক্তিগুলো থেকে বাইরে থাকার পথে হাঁটতে পারে; অথবা ট্রাম্পের ব্যর্থ নীতি পরিহার করে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে শান্তি ও বন্ধুত্ব স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত চার বছরের শাসনামলে ট্রাম্পের ভুল নীতি ও বাস্তবতা বিবর্জিত পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন এবং তার কারণেই দেশটির মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। রাশিয়ার তাতারিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াদিম খুমানগু মনে করেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল এবং এর ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে গেছে।

যাইহোক, পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার প্রতিশ্রুতি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসে এবং তেহরান ওয়াশিংটনকে এটা দেখিয়ে দিয়েছে যে, হোয়াইট হাউজের বলদর্পী শক্তির কাছে তারা মাথা নত করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি কোম শহরের গণজাগরণ দিবস উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার  ফিরে আসার ব্যাপারে ইরানের কোনো তাড়াহুড়া নেই বরং আমাদের বক্তব্য হচ্ছে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে হবে এবং এটা তাদের দায়িত্ব।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার বড় কারণ হচ্ছে মার্কিন আধিপত্যকে মেনে না নেয়া। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজেরা শক্তিশালী হওয়া। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়টির  ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ইরান যৌক্তিক অবস্থানে রয়েছেন। জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু শর্ত হচ্ছে তাদেরকে অবশ্যই ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ