ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২১ ১৯:২০ Asia/Dhaka

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে: অসারের তর্জন গর্জন সার। ইসরাইলের ব্যাপারে প্রবাদটি যথার্থ। কেননা ইরানকে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলের গলা বেশ চড়া। কিন্তু বাস্তবে তাদের কিছুই করার সামর্থ্য নেই।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি সোমবার কাজভিন প্রদেশের প্রশাসনিক কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেন। ওই বৈঠকের অবকাশে তিনি সাংবাদিকদের বলেন: "ইসরাইল হলো বিশাল মুখের জন্তুর মতো। চিৎকার চেঁচামেচি করে, হুমকি দেয় কিন্তু ক্ষমতা খুবই সামান্য। ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি কার্যকর করার ক্ষমতা তাদের নেই।

সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ হলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মূল কাজ। গ্যালোপের মতো পশ্চিমা জরিপ সংস্থাগুলোর মতে, বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাজেট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তাদেরই মদদপুষ্ট ইসরাইলের কাছে রয়েছে উন্নত মানের কিছু অস্ত্র।  এখন প্রশ্ন হল এতো বাজেট আর অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন ইরানে আক্রমণ করার সাহস পেলো না?

ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গেল রোববার ইমাম খোমেনী (র) এর প্রতি বিমান বাহিনী ও প্রতিরক্ষা কমান্ডারদের ঐতিহাসিক আনুগত্যের বার্ষিকীতে বক্তব্য রাখেন। বিমান বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডারদের সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতার সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল এবং তাদের মিত্ররা সম্প্রতি ভিত্তিহীন প্রলাপ বকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতনের আশঙ্কায় তারা ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তো একত্রিত হয়ে ব্যাপক হৈ হুল্লোড় করলো। তারা ইরানের ওপর সর্বাধিক চাপ প্রয়োগের নীতিও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলো। এবার যদি সেরকম নীতির পুনরাবৃত্তি করে তাহলে বিশ্ববাসী ওই নীতির ব্যর্থতা আরও ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করবে। এই সত্য ও বাস্তবতা ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হুমকির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ‌

বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক কাসেম ইজ্জাদ্দিন ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইলি ব্যর্থতার শেকড় সন্ধানি অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন: রণাঙ্গনে প্রতিরোধ শক্তির সঙ্গে ইসরাইলের করুণ পরাজয় আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। তারা ভেবেছিল ইরানসহ প্রতিরোধ শক্তিকে  মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে অথচ ফল হয়েছে বিপরীত। ইসরাইলই চরম পরাজয় বরণ করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ইসরাইলের পরাজয় মূলত আমেরিকারই পরাজয়। ৮ জানুয়ারি ২০২০ ইরাকের আইন-আল আসাদের মার্কিন ঘাঁটি গুড়িয়ে দিয়ে ইরান মূলত আমেরিকার গর্বই বিচূর্ণ করে দিয়েছে। ইরানের পাল্টা জবাব যে কতোটা ভয়াবহ শত্রুপক্ষ ঠিকঠাকমতো টের পেয়ে গেছে। ইরানের হুমকির ফলে এ অঞ্চলে এখন মার্কিন ঘাঁটিগুলোও মারাত্মকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শত্রুরা এখন কেবল মুখেমুখেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, বাস্তবে ওই হুমকি কার্যকর করার ক্ষমতা তারা রাখে না। সম্প্রতি ইরান অন্তত দশটি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এইসব মহড়া ছিল স্থল-আকাশ-সমুদ্র এবং ড্রোন কেন্দ্রিক। সুতরাং শত্রুরা যদি ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শক্তিকে মূল্যায়ন করতে ভুল করে তাহলে তারা এতো বড় ভুল করবে যে চরম মূল্য গুনতে হবে তাদেরকে।

ইসরাইলের হুমকি ধমকি আসলে নিজেদেরকে শক্তিশালী হিসেবে প্রচার করার অপপ্রয়াসমাত্র। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তারা আসলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতায় ভীত হয়ে পড়েছে। সুতরাং ইরানের পক্ষ থেকে যে-কোনো হুমকির পাল্টা জবাবের ভয়াবহতা অনস্বীকার্য।#

পার্সটুডে/এনএম/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ