মার্চ ০১, ২০২১ ১৮:৪১ Asia/Dhaka

পরমাণু সমঝোতার ইউরোপীয় সমন্বয়কারী জোসেফ বোরেল অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের যে প্রস্তাব দিয়েছেন ওই প্রস্তাবকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সময় উপযোগী বলে মনে করে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তিন ইউরোপীয় দেশের সাম্প্রতিক অবস্থান ও পদক্ষেপই এর কারণ।

গতরাতে ইরানের কূটনৈতিক সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন: আমেরিকার অবস্থান কিংবা আচরণে এখন পর্যন্ত কোনোরকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় নি। এই মুখপাত্র বলেন: বাইডেন সরকার এখনও সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ব্যর্থ নীতি পরিহার করে নি। এমনকি পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া অঙ্গিকারগুলো কিংবা নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার ঘোষণাও দেন নি। খতিবজাদেহ বলেন পরমাণু সমঝোতা নিয়ে দর কষাকষির কোনো সুযোগ নেই। পাঁচ বছর আগে সেসব হয়ে গেছে।

ইরান সম্প্রতি সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনপিটি চুক্তির সম্পূরক প্রটোকল বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রতিপক্ষের অঙ্গিকার মেনে না চলা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করার কারণে ওই সম্পূরক প্রটোকল বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সুতরাং পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য নতুন কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। আগের সমঝোতায় ফিরে এলেই হবে। এ জন্য পরমাণু সংস্থারও কোনো সনদ কিংবা প্রটোকলের প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখ্‌তে রাভানচি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সে কথারই অনুবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন: আমেরিকা যদি ছয় জাতিগোষ্ঠির দলে ফিরে আসতে চায় তাহলে প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ করলেই হবে। সেক্ষেত্রে ইরানের ওপর থেকে বিগত পাঁচ বছরে যত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেসব তুলে নিতে হবে। তাহলেই ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে।

ইরানের পররাষ্ট্রনীতি হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। এক্ষেত্রে খাতিবজাদেহ'র মন্তব্য পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন। পরমাণু সমঝোতা একতরফাভাবে বাস্তবায়নের কোনো অর্থ নেই।#

পার্সটুডে/এনএম/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।  

 

ট্যাগ