মার্চ ০৫, ২০২১ ১৭:৪৩ Asia/Dhaka
  • 'সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন রেডিও তেহরানের শ্রোতারা'

মানুষ মাঝে মাঝে পাপ বুদ্ধির দ্বারা চালিত হয়। তখন সে জ্ঞানশূন্য, বোধশূন্য, ভয়ঙ্কর এবং হিংস্র। কাল পাশবিক আচরণ সভ্যতা হয় ভূলুণ্ঠিত। সভ্যতা থমকে দাঁড়ায়। বিপন্ন হয় মনুষ্যত্ব।

যখন সম্প্রদায়গত ভেদবুদ্ধি মানুষকে ধ্বংসলীলায় মত্ত করে তখন তাকে বলে সাম্প্রদায়িক। ধর্মের সঠিক সংজ্ঞা ভুলে গিয়ে মানুষ তখন লিপ্ত হয় রক্তের খেলায়। শুভবোধকে বিসর্জন দিয়ে ভাইয়ের রক্তে রাঙিয়ে তোলে নিজের তরবারি। সাম্প্রদায়িক এই দাঙ্গায় নিপীড়িত মানুষের সামনে রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে রেডিও তেহরানের শ্রোতা সমাজ। তারা মানুষের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে, প্রতিবাদ জানাতে পারে ধ্বংসকারীকে।

'সাম্প্রদায়িকতা' শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশে অতি প্রাচীন। দীর্ঘদিন ধরে এ  অঞ্চলের মানুষ- এর বিষময় ফল ভোগ করে আসছে। দেশের বুকে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোকে বিশ্লেষণ করলে সাম্প্রদায়িকতার কার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর উৎসমূলে আছে অন্যের মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস। মৌলবাদীরা সাধারণ মানুষকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিপথে চালিত করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রাজনীতি। ক্ষমতা লাভের আশায় ভোট প্রার্থীরা মানুষকে প্ররোচিত করে। তবে বিদেশি ইংরেজ অনেকদিন আগেই এই দেশগুলোর মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। এছাড়া আছে ক্ষমতা লাভের আকাঙ্ক্ষা, অচরিতার্থ লোভ পূরণের ইচ্ছা, অর্থ লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। বর্তমানে মন্দির মসজিদ গীর্জার প্রসঙ্গ তুলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ বাধিয়ে দিয়ে ভোট বাক্স পূর্ণ করার চেষ্টা করছে এক ধরনের রাজনৈতিক নেতারা।

মহা-মানবের মিলনক্ষেত্র ভারতীয় উপমহাদেশ। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। রেডিও তেহরান বলে 'সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং তাদের বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া ইসলামবিরোধী'। ধর্মবিশ্বাসে, আচার-আচরণে একেরসঙ্গে অপরের পার্থক্য বিস্তর। ফলের সম্প্রদায়গত ভেদবুদ্ধিকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা, হানাহানি ঘটাটা বিচিত্র নয়। তবে এই অঞ্চলে ইংরেজ আসার পরে সাম্প্রদায়িকতার চেহারা যায় পাল্টে। তারা সুচারুভাবে এদেশগুলোতে রোপন করে দ্বিজাতি তত্ত্ব। যার শেষ পরিণতি হলো দেশ বিভাজন। আর তারই ফলস্বরূপ এ অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ করে এক মারযজ্ঞ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় সেদিন বিধ্বস্ত হয় ভারত আত্মা। দুঃখ করে কবি দিনেশ দাস লিখেছেন-

"এখানে তো শাঁখের করাতে

দিনগুলি কেটে যায় করাতের দাঁতে

সীমানার দাগে দাগে জমাট রক্তের দাগ-

কালনেমী করে লঙ্কাভাগ।"

স্বাধীনতার পরে ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয় বিহার, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, দিল্লি প্রভৃতি জায়গায়। রাম মন্দির বনাম বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বয়ে যায় রক্তস্রোত। সম্প্রতি সারাদেশ প্রত্যক্ষ করল গুজরাটের নৃশংস দাঙ্গাকে। গত কয়েক বছরের মধ্যে ভারত ভূমিতে ঘটে গেছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০০ দাঙ্গা। বাংলাদেশ পাকিস্তান ধরলে সে সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি।

সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত ভাঙ্গার প্রতিজ্ঞা নিয়ে রেডিও তেহরানের শ্রোতা সমাজ রুখে দাঁড়াতে পারে। যখনই সাম্প্রদায়িক পিশাচরা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসবে তখন শ্রোতা সমাজ তাদের পথ রোধ করবে। জীবনের পক্ষে লড়াই করবে। সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে যখন দেশে রক্তের হোলিখেলায় মত্ত হবে তখন রেডিও তেহরানের শ্রোতা সমাজ বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করবে:  'ভাই এ ভাই এ লড়বো না/ দাঙ্গা করে মরবো না'

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ভারতীয় উপমহাদেশ আজ বিপর্যস্ত। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান  এই উপমহাদেশের নানা প্রান্তে প্রায় সংগঠিত হচ্ছে ধর্মান্ধতার লড়াই। সংখ্যালঘুদের উপর করা হচ্ছে অন্যায় নির্যাতন। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় করা হচ্ছে হস্তক্ষেপ। ভারতীয় উপমহাদেশ রক্তাক্ত হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন যাচ্ছে থেমে। এর থেকে মুক্তির জন্য চাই আত্মসমীক্ষা, চাই শিক্ষা, চাই মানসিকতার পরিবর্তন। রেডিও তেহরানের আদর্শে এবং বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে রেডিও তেহরানের শ্রোতা সমাজ পারে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষ দাঁত ভাঙতে।

 

ধন্যবাদান্তে

বিধান চন্দ্র সান্যাল

ঢাকা কলোনী, বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।  

 

ট্যাগ