মার্চ ০৫, ২০২১ ১৯:৪৩ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের অনুরোধের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও বলেছেন:পরমাণু সমঝোতা নিয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ নেই।

আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যান বুধবার বলেছেন:  ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাই আমেরিকা আরও শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি প্রত্যাশা করে। জারিফ বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন: ২০২১ সালের সঙ্গে ২০১৫ সালের যদি মিল না থাকে তাহলে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১৯৪৫ সালের সঙ্গেও তো মিল নেই। তাহলে জাতিসংঘের ঘোষণায়ও পরিবর্তন এনে আমেরিকার ভেটো ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। কেননা আমেরিকা অসংখ্যবার এই ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

বাইডেন সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে বিভিন্ন রকম অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘোষণায় নতুন কোনো বার্তা নেই। সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ব্যর্থ নীতিরই অনুসৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা  বিশেষ করে বাইডেন সরকারের বিদেশ নীতি নির্ধারকরা যেসব বক্তব্য দিচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাইডেন সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে: হোয়াইট হাউজের মিত্রদের স্বার্থরক্ষার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। ট্রাম্প সরকারের চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এই নীতির প্রয়োগে আমেরিকার কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয় নি উল্টো বরং ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ প্রতিরোধের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সুতরাং বাইডেন সরকার যদি পুনরায় সেই নীতিই অনুসরণ করে তাহলে সেটা হবে কৌশলগত ভুল। কেননা ইরান নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় বিদেশিদের ইচ্ছাকে তোয়াক্কা করে না।

পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার ফিরে আসার ব্যাপারে ইরানের চূড়ান্ত বক্তব্য হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। যে কোনোরকম রাজনৈতিক চাপ কিংবা হুমকি পরিস্থিতিকে কেবল জটিলই করে তুলবে। নিষেধাজ্ঞা না তুলে সমঝোতায় ফেরার আলোচনাকে ইরান অযৌক্তিক বলে মনে করে। ইরান কোনো অবস্থাতেই তাদের নীতি থেকে সরে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

ইরানের সংসদ মজলিশে শুরা এরইমধ্যে দেশের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য আইন অনুমোদন করেছে। পশ্চিমা পক্ষগুলো যদি তিন মাসের মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তবে ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।#

পার্সটুডে/এনএম/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগ