এপ্রিল ১৪, ২০২১ ১৭:২৯ Asia/Dhaka

ইরানের নাথাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় সম্প্রতি যে নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়েছে তার পেছনে ইসরাইলের হাত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসা উচিত।

ইরানের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আইএইএর নজরদারি রয়েছে নাথাঞ্জ তার মধ্যে অন্যতম। ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলার কারণেই নাথাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত সরবরাহে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক রনিন বার্গম্যান এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, 'যদিও নতুন কোনো বিষয়ে যৌথভাবে কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়া যায় তবুও ইসরাইলের গোপন যুদ্ধ কিংবা ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না। ইরানের ব্যাপারেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেননা পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমঝোতা হলেও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারে।'

নাথাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় নাশকতামূলক হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে লেখা চিঠিতে আন্তর্জাতিক তত্বাবধানে পরিচালিত ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার ব্যাপারে ইসরাইলের আগের হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় পরমাণু রেডিও অ্যাকটিভ ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। তিনি একে পরমাণু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিশ্বে পরমাণু বিষয়ে গবেষণাকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ অঞ্চলের একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধর দখলদার ইসরাইল সবসময়ই ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি গত রবিবার নাথাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে ইসরাইলের নাশকতামূলক হামলার কথা উল্লেখ করে পরমাণু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আইএইএসহ আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে ইসরাইল  ইরানের বেশ ক'জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে এবং একের পর এক সাইবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ ক'বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় ইসরাইল স্টুক্সনেট ভাইরাস দিয়ে ইরানের নাথাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর ক'বছর পর অর্থাৎ গত বছরের জুলাই নাথাঞ্জের সেন্ট্রিফিউজ প্রতিস্থাপন কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইসরাইলের বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছিল। সে সময় ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি ওই হামলাকে নাশকতামূলক অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিন্দা জানানোর জন্য আইএইএর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

যাইহোক, ইসরাইল ফের ইরানের নাথাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে সাইবার হামলা চালানোয় যে বিস্ফোরণ ঘটেছে তাতে বিদ্যুত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এ অবস্থায় বার বার ইসরাইলের এতো বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইএইএ কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সেটাই বড় প্রশ্ন। অথচ এ সংস্থা ভাল করেই জানে ইসরাইলের নাশকতামূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আইএইএ প্রধান নিজেকে ও এ সংস্থাকে নিরপেক্ষ দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে তারা ইসরাইলের বেআইনি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।#            

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

ট্যাগ