এপ্রিল ১৯, ২০২১ ১৬:৫৪ Asia/Dhaka

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সংসদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া ও বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বেআইনিভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও ইরান এ সমঝোতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক ধৈর্য ধরেছে এবং এক বছর পর্যন্ত নিজের প্রতিশ্রুতিতে অটল ছিল। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য দুটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল এ বৈঠকের ফলাফলের ওপর নজর রাখছে এবং সামগ্রিকভাবে এ বৈঠককে তারা ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে।

ভিয়েনা বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ের ওপর ইরান গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথমত, বৈঠকের লক্ষ্য স্পষ্ট করা আর তা হচ্ছে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া। সে অনুযায়ী প্রতিপক্ষকেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা দেয়া। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ভিয়েনা বৈঠকে নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সব পক্ষ একমত হয়ে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এ কারণে সবাই কিছুটা আশার আলো দেখছে যদিও সেটাও  সহজ কাজ হবে না। সে কারণে আরাকচি বলেছেন, আলোচনার ফলাফলের ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা কঠিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান এনরিক ম্যুরা বলেছেন, যদিও এখনো খুঁটিনাটি কিছু কাজ বাকি রয়েছে কিন্তু আমাদের সাফল্যের একটি দিক হচ্ছে সবপক্ষই চায় যুক্তরাষ্ট্রকে পরমাণু সমঝোতায় ফিরিয়ে আনতে এবং সবাই পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলুক।

ভিয়েনা বৈঠকে ইরানের দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, সবাইকে এটা বুঝিয়ে দেয়া যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়রা শুধু মুখে বা  কাগজে কলমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বললেই হবে না বরং সত্যিকারভাবে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে কিনা সেটা যাচাই বাছাই করে ইরান নিশ্চিত হতে চায়। প্রয়োজনে যৌথ কমিশনের বৈঠক ফের অনুষ্ঠিত হতে পারে কিন্তু তেহরান চায় না এ বৈঠক অযথা দীর্ঘায়িত হোক। কেননা বৈঠক অযথা দীর্ঘায়িত হলে কিংবা সময় ক্ষেপণ করলে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হবে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ণ হবে। তাই তাদেরকে মুখে নয় বরং কাজের মাধ্যমে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। ভিয়েনায় ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি এ ব্যাপারে বলেছেন, পরমাণু বিষয়ক আলোচনা নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই আমাদের আলোচক দল নীতি গ্রহণ করেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইরান এ পর্যন্ত ব্যাপক আন্তরিকতা দেখিয়েছে। এখন প্রতিপক্ষের পালা। মোটকথা সংলাপের ব্যাপারে ইরানের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। কেননা অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে আলোচনার জন্য আলোচনা করে কোনো লাভ হয়নি।#

 পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

ট্যাগ