মে ০৮, ২০২১ ১৮:০৮ Asia/Dhaka

আজ থেকে তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৮মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এর আগে বহুবার তিনি এ সমঝোতার সমালোচনা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে খারাপ চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে এ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

পরমাণু সমঝোতার পর ট্রাম্প প্রশাসন তা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবও লঙ্ঘন করায় তারা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে। এমনকি ওয়াশিংটনের বেআইনি দাবি তেহরানকে মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং পরমাণু সমঝোতাকে রক্ষার যে কোনো চেষ্টার বিরোধিতা করেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১২টি দাবি মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওই ১২টি দাবি উত্থাপন করেছিলেন যা কিনা আন্তর্জাতিক সংবাদ ও রাজনৈতিক মহলের হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছিল।

ওই ১২টি প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব ও তৎপরতা থামিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল ইরানকে সম্পূর্ণ বসে আনতে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধারনা করেছিলেন, সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটনের ইচ্ছেমতো নতুন করে পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে রাজি করানো যাবে।

গত ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সময় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালেন যখন ইরানের ব্যাপারে তিনি কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। ট্রাম্পের উপদেষ্টা জন বোল্টন যিনি সবচেয়ে উগ্র ও কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিতি তিনিও স্বীকার করেছেন যে ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্প  সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা না থাকায় এবং অযথা  তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি ও এমনকি মিত্রদের থেকেও ওয়াশিংটনের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বলা যায় আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ মোকাবেলায় ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে ট্রাম্প কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন এমনকি ট্রাম্প দেশের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর ক্রিস মারফি গতকাল বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তা থেকে আমেরিকা কিছুই পায় নি।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ট্রাম্প ভুল করেছেন এবং তার এ পদক্ষেপ মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী এবং এতে কেবল ওয়াশিংটনই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বাইডেন বলেছেন, তেহরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন শুরু করলে ওয়াশিংটনও এ চুক্তিতে ফিরে আসবে। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কেবল ইরান পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন শুরু করবে।#         

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮

ট্যাগ