জুন ০৮, ২০২১ ১৬:৩৩ Asia/Dhaka

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ইরান বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সম্প্রতি যে অগঠনমূলক অবস্থান নিয়েছে তা এই সংস্থা এবং ইরানের মধ্যকার যোগাযোগকে অচলাবস্থার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তিনি বলেন, আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক একতরফা অবস্থান ইরান ও আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে এই সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে যে প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় ভিয়েনায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি এসব কথা বলেছেন। রাফায়েল গ্রোসি গতকাল বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে আইএইএর প্রশ্নের জবাব না দেয়ায় তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে রায় দিতে এই সংস্থা সক্ষম নাও হতে পারে। তিনি আরো বলেন যে আইএইএ'র সঙ্গে ইরান শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা করছে না। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার দাবি ইরানের হাতে চারটি অঘোষিত স্থানে পরমাণু স্থাপনা রয়েছে যেখানে আইএইএ-কে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে গ্রোসি এমন কথা এই প্রথম বলেন নি, এর আগেও তিনি এমন দাবি করেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইএইএ'র প্রধানের এসব বক্তব্য অবাস্তব এবং মার্কিন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এ সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকের একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনে তার দেশের ভূমিকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বৈঠকে দাবি করেছেন, পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার বিষয়ে ইরানিদের আগ্রহের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির ব্যাপারে ট্রাম্প ও পম্পেওর নীতি এবং ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত রাখবেন নাকি তা থেকে সরে আসবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোন পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হলে ইরানও পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন স্থগিত করার অধিকার রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইসলামি ইরানও পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এমনকি ইরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য করার জন্য এবং ইরানের জাতীয় অধিকার রক্ষার স্বার্থে স্বেচ্ছায় কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তথা সম্পূরক প্রটোকলসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য আমেরিকাকে তিন মাস সময় দেয়ার কথা ঘোষণা করে। এর অন্যথায় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সংরক্ষিত আইএইএ'র সমস্ত ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হবে এবং রেকর্ডের কোন তথ্য আইএইএকে দেয়া হবে না বলে তেহরান জানিয়ে দেয়। এ সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এটিকে নবায়নের জন্য ভিয়েনায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ থেকে পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানের আন্তরিকতা ফুটে উঠেছে। ইরানিরা বলেছে নিষেধাজ্ঞা সত্যিকার অর্থে তুলে নেয়া হয়েছে কিনা সেটা তারা যাচাই বাছাই করে তবেই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে।

যাইহোক ভিয়েনায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি বলেছেন, তার দেশের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএর প্রধানের  প্রতিবেদন সঠিক নয়। কেননা তাদের অভিযোগ ও তথ্যের উৎস সঠিক নয় এবং ইরান যে এ পর্যন্ত সহযোগিতা দিয়ে এসেছে তার কোনো কিছুর উল্লেখ নেই।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮

ট্যাগ