জুন ১০, ২০২১ ১২:০১ Asia/Dhaka
  • 'গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে'

ইরানে যখন আমেরিকা-ইউরোপের মদদে পাহলভি বংশের দুঃশাসন চলছিল, ইরানের তেলসম্পদ আমেরিকা, ইসরাইল ও ব্রিটেন লুটে খাচ্ছিল এবং ইসলামি সংস্কৃতিকে মুছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি চালু ও প্রকাশ্যে মদ্য পানকে বৈধ করা হয়েছিল ঠিক তখনই আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লবের মাধ্যমে পাহলভি বংশের দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং ইরান 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র' হিসেবে পরিচিত লাভ করে।

ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ইরান মুসলিম বিশ্বে আন্তর্জাতিক মানের গণমাধ্যম প্রচার নিয়ে ভাবতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের বিশ্ব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে রেডিও তেহরান-এর বাংলা বিভাগের সম্প্রচার শুরু হয়।

বর্তমানে পশ্চিমাবিশ্ব নিয়ন্ত্রিত অনেক গণমাধ্যম রয়েছে যেগুলো পাশ্চাত্য মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে নানা ধরনের ভুল তথ্য প্রচার করে, সমকামিতার মত ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোকে সাপোর্ট করে। এছাড়াও বিভিন্ন মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরব, আরব আমিরাতের মত রাজতান্ত্রিক দেশ যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের পক্ষ নিয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রচার করে। এতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্তের মধ্যে পড়ে যায় এবং নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ করতে থাকে। এরকম ঘটনা ঘটেছিল আট বছরব্যাপী ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। যেখানে পশ্চিমা বিশ্ব নিয়ন্ত্রিত হলুদ মিডিয়া ইরানের বিরুদ্ধে ব্যপক ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের আপামর জনসাধারণের এই ভুল ভাঙতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে যুদ্ধের প্রকৃত খবর দিতে রেডিও তেহরান বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল।

রেডিও তেহরান সব সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে বিশুদ্ধ তেলাওয়াত এবং সহজ বঙ্গানুবাদ সবার মনকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। আমি রেডিও তেহরান শুনি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকে। আমার বাবা তখন রেডিও তেহরান শুনতেন রাতের বেলা এবং আমি শুনতাম অনুষ্ঠান শুরুর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত। রেডিও তেহরানের আমি নিয়মিত শ্রোতা হওয়ায় প্রতিদিন রাতের সংবাদ শোনা হয় এবং রেডিও তেহরানের সংবাদ পরিবেশন অনেক সুন্দর এবং তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করা হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় গণমাধ্যম পশ্চিমা ধাঁচের সংবাদ পরিবেশন করে এবং সাধারণ মানুষকে সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত করে। কিন্তু রেডিও তেহরান বাংলা সংবাদ সপ্তাহের প্রতিটি দিনই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের পর বিশ্বসংবাদ ও দৃষ্টিপাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে। এছাড়া ইরান ভ্রমণ, ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস; আসমাউল হুসনা, আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল, চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন, দর্পন, গল্প ও প্রবাদের গল্প, স্বাস্থ্যকথা, কুরআনের আলো, রংধনু আসর, পাশ্চাত্য জীবন ব্যবস্থা এবং সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান আলাপনসহ বিশেষ দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে রেডিও তেহরান। পৃথিবীর অন্য কোনো গণমাধ্যম এ ধরনের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে না।

এসব অনুষ্ঠান থেকে রেডিও তেহরান-এর নিয়মিত শ্রোতারা অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারেন। এসব অনুষ্ঠান নিজের ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করি।

ইরানকে অনেক গণমাধ্যম 'শিয়া দেশ' হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করে এবং বিভাজনের চেষ্টা করে। কিন্তু রেডিও তেহরান-এর প্রোগ্রাম থেকে বোঝা যায় আসলে তারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদে জড়াতে চায় না বরঞ্চ সবার মাঝে ইসলামের সুমহান আলো পৌঁছে দিতে চায়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান নিষ্ঠার সাথে এবং সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এসব ইসলামি ধাঁচের এবং তথ্যবহুল অনুষ্ঠানমালা সব ধর্মের, সব পেশার, সব জাতিরর মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সুস্থ ধারার অনুষ্ঠান প্রচার ও প্রসার এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেডিও তেহরান কোনো এর বিকল্প নেই।

 

আবু তাহের

গ্রাম+ডাকঘর: নয়াদিয়াড়ী, উপজেলা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

ট্যাগ