জুন ১২, ২০২১ ১৭:০১ Asia/Dhaka

ইরানে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো ইরানের নির্বাচন বিরোধী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু করেছে। প্রথমে নির্বাচন বয়কট এবং এরপর গোলাযোগ সৃষ্টি করতে ইরানের জনগণকে উৎসাহিত করাই এ প্রচারণার মূল লক্ষ্য।

আমিরাত ও সৌদি নিয়ন্ত্রিত এ গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন উস্কানিমূলক কৌশলে যেমন ইরানের প্রেসিডেন্ট পদের গুরুত্বকে মূল্যহীন প্রমাণ করা বা প্রশ্নবিদ্ধ করা, নির্বাচনে জনগণের অংশ নেয়াকে বেহুদা বা অযথা হিসেবে তুলে ধরা, বিভ্রান্তি ছড়ানো, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করা প্রভৃতির মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যাপারে ইরানের জনগণকে হতাশ করার চেষ্টা করছে। এসব প্রচার মাধ্যমগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে বিষিয়ে তোলার পাশাপাশি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর জনমনেও ইরানের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন ধরনের খবর, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, সাক্ষাতকার ভিত্তিক আলোচনা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক ছবি প্রচার প্রভৃতির মাধ্যমে ইরান সম্পর্কে সমগ্র এ অঞ্চলের জনমনে খারাপ ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সৌদি গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন ধরনের অডিও ও ভিডিও ক্লিপ তুলে ধরার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে বিরূপ ধারনা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশটির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে লোক দেখানো বলে প্রচার চালাচ্ছে। এভাবে ইরান বিরোধী প্রচার চালানোর মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে এ অঞ্চলের রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকারগুলোর বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। কেননা ইরানে নির্বাচনী ব্যবস্থা এ অঞ্চলের রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকার ব্যবস্থা ও তাদের অনুগত প্রচার মাধ্যমগুলোর জন্য চপেটাঘাত। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনবিহীন সৌদি আরবের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং এ দেশটি হাসি ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সৌদি গণমাধ্যমগুলো ইরানের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে  যে সমালোচনা করছে তা খুবই হাস্যকর। অথচ সৌদি আরবে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ(সা.)কে হত্যার জন্য আরব গোত্রদের মধ্যে লটারির আয়োজনের মাধ্যমে। অর্থাৎ সৌদি আরবে কখনো গণতন্ত্রের ছোঁয়া না লাগলেও তারা ইসলামি ইরানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তারা ইরানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এমন ধারনা দেয়ার চেষ্টা করছে যে তার হাতে মৌলিক কোনো ক্ষমতা নেই বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল জায়গা অন্যখানে।

যাইহোক, সৌদি ও আমিরাতি গণমাধ্যমগুলো নির্বাচনের পর সহিংসতার জন্য ইরানের জনগণকে উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা ইরানের ইসলামি সরকার বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেক গোষ্ঠীর পক্ষে প্রচার চালিয়ে এটাকে ইরানের ইসলামি সরকারের বিকল্প হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে কেউ নির্বাচনে অংশ না নেয় বা ভোট দানে বিরত থাকে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে ইরানের সরকার ও জনগণ এসব অপপ্রচার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২

ট্যাগ