জুন ১৩, ২০২১ ১৬:৪১ Asia/Dhaka

ইরানের আসন্ন ত্রয়োদশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরা শনিবার তৃতীয় ও শেষ টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ করে নিজের চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেছেন। এই টেলিভিশন বিতর্কে সাতজন প্রার্থী বর্তমান সময়ে ইরানের জনগণের সবচাইতে বড় বড় সংকট নিরসনে তাদের কর্মপন্থা তুলে ধরেছেন।

এ বিতর্কে তারা অর্থনৈতিক সংকটসহ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা ও পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং প্রশ্নগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে তার উপর ভিত্তি করে প্রার্থীরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রার্থীরা তরুণ সমাজের সামনে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, গৃহ-সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ারবাজার নিয়ে বিরাজমান সংকট ও এ নিয়ে মানুষের অসন্তুষ্টি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নীতি, পররাষ্ট্র নীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রার্থী তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

মোটকথা, এই টেলিভিশন বিতর্কের মাধ্যমে প্রত্যেক প্রার্থী জনগণের সমস্যা এবং সেসব সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে তাদের কর্মপন্থা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া কোন কোন প্রার্থী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের ভুলত্রুটিগুলো তুলে ধরার কিংবা সমালোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। এ পর্যন্ত তিন দফায় টেলিভিশন বিতর্ক হয়েছে। প্রতিটি বিতর্কে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার পাশাপাশি তাদের নিজেদের ভবিষ্যত কর্মসূচি কি হবে সেসব তুলে ধরেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি তার এক বাণীতে প্রার্থীদেরকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা নিশ্চিত নয় সেসব নিয়ে তারা যেন অযথা প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা যেমন একে অপরকে অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন ইরানের প্রার্থীদেরকে সেসব আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেছেন, অতীতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেসব বিতর্ক হয়েছিল তাতেও পরস্পরের চরিত্রহনন ও অপবাদ দেয়ার কারণে দেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে জীবন যাপনের মানোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধান, বৈষম্য দূরীকরণ ও দুর্নীতি উৎখাত করা জনগণের প্রধান দাবি। জনগণ মনে করে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা ও শক্তি সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত এটা ভুলে গেলে চলবে না যে ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও করোনার বিস্তার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এবং দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন সংকট সত্বেও হতাশ হওয়া চলবে না। অবশ্যই নিজেদের দুর্বলতাটাকে মেনে নিতে হবে এবং তা থেকে কাটিয়ে ওঠার পথ বের করতে হবে। তবে এবারের নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রার্থীরা যুবকদের বিভিন্ন মৌলিক সমস্যার দিকে নজর দিয়েছেন এবং তারা অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছেন। এটা ঠিক যে টেলিভিশন বিতর্কে এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের কর্মসূচি তুলে ধরা কঠিন কাজ কিন্তু তারপরও যেহেতু নির্বাচনের এখনো সময় বাকি আছে তাই প্রার্থীরা তাদের কর্মসূচি বা দৃষ্টিভঙ্গিগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩

ট্যাগ