জুন ১৮, ২০২১ ১৬:২৩ Asia/Dhaka

ইরানে ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট-গ্রহণ চলছে। আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল ও স্থানীয় পরিষদ এবং পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট-গ্রহণও চলছে। সকাল ৭টা থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি দেখা যায়। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'আজ জাতির ভাগ্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটির মালিক কেবলমাত্র জনগণ। কেননা জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।' ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, 'আমরা নির্বাচনে ব্যাপকমাত্রায় জনগণের উপস্থিতির জন্য উৎসাহিত করছি এ কারণে যে এতে করে জনগণই উপকৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি ইরানের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে।' জনগণের প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন, কেউ যেন একথা না ভাবে আমার একটি ভোটের কিই বা মূল্য আছে?

ভোট দিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ৪২ বছরে অনুষ্ঠিত ১২টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো এবারের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন তিন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, জনগণের অংশগ্রহণ ভিত্তিক ইসলামি শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকার ক্ষেত্রে এবং দেশের ভাগ্য নির্ধারণে এটি বিরাট ভূমিকা রাখবে। ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণের উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ নির্বাচন বিভিন্ন চিন্তাধারা ও রুচির বহি:প্রকাশ ঘটার সুযোগ এনে দিয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার যে প্রতিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশ পরিচালনার পদ্ধতি কিংবা রুচিবোধ পূর্বের চেয়ে ভিন্নতর হয়। এটা সুস্থ নির্বাচনের প্রমাণ যা প্রতিটি নির্বাচনের জন্য  গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের নির্বাচনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের এর প্রভাব। কেননা ইসলামি ইরানে ভোট দেয়া জনগণের যেমন ধর্মীয় দায়িত্ব তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারও। মানুষ একটি ভোটও যদি দেয় তাহলে সম্মিলিতভাবে তা বিরাট ভোট ব্যাংকে পরিণত  হয় যা কিনা ধর্মীয়, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় ভোটকেন্দ্রে জনগণের কম উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ইরানের নির্বাচনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, এতে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি দেশটির ইসলামি শাসন ব্যবস্থার ভিতকে আরো মজবুত করবে। গত ৩৮ বছরে অনুষ্ঠিত ইরানের অন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় ইরানের জনগণ যতই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ততই আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

যাইহোক, ইসলামি ইরান এ অঞ্চলে বৃহৎ ও শক্তিশালী একটি দেশ। যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন না কেন দেশ পরিচালনায় তার ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হবে যাতে তিনি অভ্যন্তরীণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। তাই জনগণের সুচিন্তিত মতামত দেশ গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। #        

পার্সটুডে/রেজওয়ান  হোসেন/১৮           

 

ট্যাগ