জুলাই ০৩, ২০২১ ১৭:৩২ Asia/Dhaka

মার্কিন যাবতীয় কর্মকাণ্ড মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞে পরিপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানে পরমাণু বোমা হামলা এবং ১৯৮৮ সালে ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার কথা উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া মার্কিন সরকার ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমনের অজুহাতে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে যা থেকে তাদের আসল চরিত্র সারা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় দফতরে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ে হামানে এ সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে বলেছেন, ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার শহীদ লে. জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ প্রকৃষ্ট উদাহরণ; কাজেই জাতিসংঘের এ বিষয়টি হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জেনারেল সোলেইমানি ছিলেন উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখসারির কমান্ডার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বীর সেনানী। কাজেই তাকে নির্বিচারে হত্যার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী হামলায় যে বা যারা জড়িত ছিলে তাদের প্রত্যেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তিনি আরো বলেন, জেনারেল সোলাইমানি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের স্বীকার এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জেনারেল সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দুই দেশের আরো ৮ কমান্ডার শহীদ হন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দম্ভভরে ঘোষণা করেন, তিনিই জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আন্তর্জাতিক আইনের মানমর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই আমেরিকার ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করা জরুরি। এ কারণে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড গত বছর এক প্রতিবেদনে জেনারেল সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ‘স্বেচ্ছাচারী হত্যাকাণ্ড’ বলে যে মন্তব্য করেছিলেন সে সম্পর্কে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি হামানে বলেন, ওই পরিভাষা দিয়ে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা পুরোপুরি দেয়া সম্ভব হয়নি এবং এ কারণে জাতিসংঘ যেন বিষয়টিকে মোটেই হালকাভাবে না নেয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন স্বেচ্ছাচারী আচরণের মতো জাতিসংঘের আচরণেরও পরস্পর বিরোধিতার বহু নজির রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসও সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনায় কেবল দুঃখ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের দায়িত্বের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানচি জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে উল্টো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বিশ্ব জনমতকে ধোঁকা দেয়া এবং নিজের অপরাধী কর্মকাণ্ড আড়াল করার জন্যই তারা এসব অভিযোগ করছে।

যাইহোক, এসব কারণে জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ে হামানে মার্কিন অপরাধযজ্ঞের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩

ট্যাগ