জুলাই ২২, ২০২১ ১৫:৫২ Asia/Dhaka
  • আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ইরানের নৌশক্তি বৃদ্ধির প্রমাণ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনী নিজ দেশের পানি সীমানা এবং সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী। এ কারণে নৌবাহিনী তাদের শক্তি সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। ইরানের নৌবাহিনীর শক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এখন সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক পানি সীমায়ও পাড়ি জমিয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিটের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হোসেইন খানজাদি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পানিসীমায় উপস্থিতির মাধ্যমে নৌবাহিনী নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইতিহাসে এ ধরণের দৃঢ়তা ও সাহসিকতা নজিরবিহীন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইমাম খোমেনী (রহ.) মেরিন সায়েন্সে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। খানজাদি আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লবের কারণেই এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে। নৌবাহিনীর এই কমান্ডার বলেন, আজ যে ইরানের নৌবাহিনী অনেক দূরের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অভিযান চালাচ্ছে ও জাতীয় পতাকা উড়াচ্ছে তা সম্ভব হয়েছে বিপ্লবী তরুণদের সাহসিকতা ও উদ্যমের কারণে। ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের নৌবাহিনী সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট এবং আইআরজিসির নৌবাহিনী সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বহুবার সাহসিকতা এবং বিরত্বের পরিচয় দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা নৌ শক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরানের নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক জাহাজ আইআরএস মাকরান। নিজ দেশে তৈরি জাহাজটি পাঁচটি হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম। জাহাজটি তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে। বর্তমানে এটাই ইরানি নৌবহরের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। নৌপথে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা, বিশেষ বাহিনী মোতায়েন, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা, মেডিকেল সহায়তার পাশাপাশি দ্রুতগামী নৌযানগুলোর জন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে আইআরএস মাকরান।

যাইহোক, ইরানের নৌবাহিনী এখন আটলান্টিক মহাসাগরেও তাদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এ থেকে ইরানের নৌ শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। ইরানের উন্নত ও অত্যাধুনিক নৌবাহিনী সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস ইনসাইডার ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পানিসীমায় উপস্থিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এদিকে, ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যেরি মহাসাগরগুলোতে ইরানের নৌশক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, এটা আমাদের অধিকার এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

চারটি আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ইরানের নৌবাহিনী তাদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। উত্তর ভারত মহাসাগর এবং আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর ও দক্ষিণের সাগর এলাকা এবং আটলান্টিক মহাসাগর। #      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২

ট্যাগ