সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১৬:০০ Asia/Dhaka

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরান বিরোধী কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমর্থন নিয়ে ইরান বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা সীমান্ত এলাকায় ও এর আশেপাশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সীমান্তে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইরান এর আগে বহুবার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং উপযুক্ত জবাব দিয়েছে কিন্তু এবার ইরানের সামরিক বাহিনীর চিপস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের গোলযোগ সৃষ্টির তৎপরতা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিপ্লব-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয়ভাবে তৎপর রয়েছে। এসব গোষ্ঠী ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কিছু দুর্বলতা  দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইআরজিসির সহযোগিতায় ইরানের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদেরকে সমূলে উৎপাটন করতে বদ্ধ পরিকর এবং গত দুই সপ্তাহ আগে তাদের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। কেননা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ইরানের ন্যায়সঙ্গত অধিকার যাতে নিজ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় থাকে। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মার্কিন সেনারা ইরাক দখলের পর ওই দেশটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় এবং ইরানের ভেতরে ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসীদেরকে ব্যবহার করে। দ্বিতীয়ত, নিজ দেশ রক্ষায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর চিপস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হারির সামরিক ঘাটিকে ইরান বিরোধী ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন ঘাটিতে ইরান বিরোধী ষড়যন্ত্র ও কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং সন্ত্রাসীদেরকে অবশ্যই সেখান থেকে গুটিয়ে নিতে হবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের সমর্থকদের যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরান শক্ত ও তড়িৎ পদক্ষেপ নেবে। এর আগেও গত বছর ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের আইআরজিসির কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি শহীদ হওয়ার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন আইন আল আসাদ সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ওই ঘাটির একটি বিরাট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানেও ইরান বিরোধী তৎপরতা চালানো হতো।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আইন অনুযায়ী ইরাক ও উত্তর ইরাকের স্বশাসন কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব হচ্ছে সেদেশের মাটিতে ইরান বিরোধী সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০            

ট্যাগ