অক্টোবর ১৩, ২০২১ ১৬:৪৩ Asia/Dhaka
  • ইরানের সেনা বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফর: মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ গুরুত্ব পাচ্ছে

বিভিন্ন দিক থেকে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য রয়েছে। এ কারণেই এই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক শলাপরামর্শ ও সফর বিনিময়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরির নেতৃত্বে ইরানের একটি উচ্চ পদস্থ সামরিক প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফরে গেছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয় ইরানের সামরিক প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ গেলেন। দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা  প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়াও অভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক ও মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কথাবার্তা বলবেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে দুই দেশের সেনা প্রধানদের তেহরান ও ইসলামাবাদ সফরের ফলে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার নয়া অধ্যায় শুরু হয়েছে। এর আগে যেসব বিষয়ে সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল এবারের ইসলামাবাদ বৈঠকে সেসবের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি ইসলামাবাদ পৌঁছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল নাদিম রেজার সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেন।

পাকিস্তান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার ক্ষেত্রে এ দুই দেশই অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে ইরান ও পাকিস্তানের সামনে বিরাট সম্ভাবনার দরজার খোলা রয়েছে এবং তারা যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। এ কারণে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তার ইরানের আঞ্চলিক পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় ইরান। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উপপ্রধান কাসেম খান সুরি ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে ইমরান খান সরকার বিশেষভাবে আগ্রহী।

এ অঞ্চলের বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে বিশেষ করে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা সংকট এবং দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের উত্থানের কারণে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বিস্তার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এ কারণে দু'দেশের কর্মকর্তারা মনে করেন আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায় এ সমস্যা সমাধানের জন্য আঞ্চলিক সব দেশের আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ইরানের সেনা প্রধানের পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ