অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১৭:১৩ Asia/Dhaka

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক ম্যুরা শিগগিরই ইরান সফরে আসছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আলী বাকেরি এক টুইটবার্তায় এ খবর জানিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াসহ ইউরোপন-ইরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মতবিনিময় করাই হবে এনরিক ম্যুরোর তেহরান সফরের মূল উদ্দেশ্য।

ইউরোপের এ কর্মকর্তা এমন সময় ইরান সফরে আসছেন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের স্বার্থ রক্ষায় আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির কূটনীতিকরা তেহরানে এনরিক ম্যুরার আসন্ন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেছে, এমন সময় এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভিয়েনা আলোচনা গত প্রায় চার মাস ধরে স্থগিত হয়ে আছে। ইউরোপের পক্ষ থেকে এমন সময় ফের  এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়া হল যখন ফ্রান্সসহ অন্য দেশগুলোর অনীহার কারণে আজ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করার কারণেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সে কারণে কোনো ফলাফল ছাড়াই আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইউরোপ পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। এতে প্রমাণিত হয় মার্কিন একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী নীতির কাছে তারা মাথা নত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহদি সাফারি পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপের গড়িমসির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপ ইরানকে সামান্যতম অর্থনৈতিক সুবিধা দিতেও অক্ষমতা প্রকাশ করায় এবং বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি থেকে সরে না আসায় মূলত পরমাণু সমঝোতায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সব পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করলেই কেবল পরমাণু সমঝোতাকে টিকিয়ে রাখা যাবে।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সময় নষ্ট করা বা স্বল্প সুযোগ হাত ছাড়া করা কারোরই উচিত হবে না। তাই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে ইউরোপের উচিত পরমাণু সমঝোতায় দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো আলোচনার দরকার নেই। কেননা এ ব্যাপারে আমেরিকার রাস্তা পরিস্কার। যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঠিক সেভাবেই নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তিতে তাদেরকে  ফিরে আসতে হবে। যার অর্থ হবে নাকে খত দেয়া।

তবে এবার ভিয়েনায় যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে তাতে ইরান তার অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। সে কারণে এনরিক ম্যূরার তেহরান সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

ট্যাগ