অক্টোবর ১৮, ২০২১ ১৮:০৬ Asia/Dhaka

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সাইগুর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একটি উচ্চ পদস্থ সামরিক প্রতিনিধি দল নিয়ে মস্কো সফরে গেছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি ইসলামাবাদ সফরে গিয়েছিলেন।

মস্কোয় পৌঁছেই তিনি তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসির নেতৃত্বাধীন ত্রয়োদশ ইরান সরকার প্রাচ্যের দিকে মনোনিবেশ করার যে নীতি গ্রহণ করেছে তারই অংশ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করবে তেহরান’।

মস্কো সফরকালে সামরিক ও প্রতিরক্ষা  ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তার, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চলমান ঘটনাবলী দুদেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাদের আলোচনায় আফগানিস্তান প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া সিরিয়ায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সহযোগিতা নিয়েও কথাবার্তা হবে। 

ইরান ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রায়ই তেহরান ও মস্কোয় সাক্ষাতে মিলিত হন। দুদেশের মধ্যে অনেক আগে থেকেই সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পশ্চিম এশিয়াসহ সমগ্র এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সামরিক ক্ষেত্রে এই দুই দেশের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে গত এক দশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তেহরান-মস্কো সামরিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরো বহুগুণে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমনের পাশাপাশি সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তান সংকট নিরসনে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক ও সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এ অঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া, কাস্পিয়ান সাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং উত্তর ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক করিডর চালুর পরিকল্পনা ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরেশিয়া ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ভ্লাদিমির ইয়াফ সাইফ বলেছেন, ‘ইরান ও রাশিয়া মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন। কারণ এই দুই দেশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করতে প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যৌথ স্বার্থ রক্ষায় এ দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে’।

পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা ও বিরাজমান সংকট নিরসন এবং এ অঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসন ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ মোকাবেলায় ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে শলাপরামর্শ আগের চেয়ে অনেক গুনে বেড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি এমন সময় রাশিয়া সফরে গেলেন যখন আফগানিস্তান ও দক্ষিণ ককেশিয় অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমগ্র এ অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ইরান ও রাশিয়া এ অঞ্চলে পশ্চিমা মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের দমন করা এবং অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এসব কারণে বিশেষ করে  পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে  ইরানের সামরিক বাহিনী প্রধানের রাশিয়া সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমরবিদরা। তাদের মতে সামরিক ক্ষেত্রে তেহরান-মস্কো সহযোগিতা দুদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এ সহযোগিতা পশ্চিম এশিয়াসহ সমগ্র এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়বে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাকিস্তান সফরের পরপরই ইরানের সেনাবাহিনী প্রধানের রাশিয়া সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এ অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসব সফরের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮            

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ