অক্টোবর ১৯, ২০২১ ১৬:৪৮ Asia/Dhaka

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ আল উসাইমিনের সঙ্গে সাক্ষাতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সাক্ষাতে তিনি আফগানিস্তানের কান্দাহার ও কুন্দুযের শিয়া মসজিদে মুসল্লিদের ওপর উগ্র দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে ওআইসির পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের জনগণ গত দুই দশকে ব্যাপক মার্কিন আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সেনারা সেদেশ ত্যাগ করলেও তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা আইএস জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি উগ্র দায়েশ বা  আইএস জঙ্গিরা আফগানিস্তানে শিয়া ও  সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির জন্য দুটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ কুন্দুযের ফাতেমিয়া শিয়া মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জনের বেশি মুসল্লি নিহত এবং ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। আইএস জঙ্গিরা ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।

এই নিয়ে কয়েক দফা আফগানিস্তানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল। তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা নেয়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে কাবুল বিমান বন্দরের কাছে প্রথম বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ২০০ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিল। তখনও আইএস জঙ্গিরা ওই হামলার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিল। এরও কয়েক সপ্তাহ আগে কাবুলের ঈদগাহ মসজিদের কাছেই বোমা বিস্ফোরণে অন্তত আট ব্যক্তি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল। এ ছাড়া কান্দাহারে শিয়া মসজিদে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার কিছু দিন আগেও কুন্দুযের সাইয়্যেদ আবাস মসজিদে আইএস জঙ্গিদের  বোমা বিস্ফোরণে ৪৬ জন নিহত হয়।

ইসলামি ইরান এসব সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গিদের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং তাদের তৎপরতা রোধে তালেবানের ব্যর্থতার কারণে সেখানে বড় ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ  কারণে এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া ওআইসি বা মুসলিম দেশগুলোর জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে দায়েশ বা আইএসের মতো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলো এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে এবং এর ২০ বছর পর হঠাৎ ওই দেশ ত্যাগ করার মাত্র কয়েক মাস আগেও ন্যাটো জোট আফগান জনগণের ওপর হামলা চালিয়েছিল। গত ২০ বছর ধরে ন্যাটো ও মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে হত্যাযজ্ঞ চালালেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও মার্কিন আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে টুশব্দটিও করেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে জনগণ খুবই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইরান আফগান জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ