অক্টোবর ২৭, ২০২১ ১৮:৩০ Asia/Dhaka

ইসলামি ইরান গত চার দশকের বেশি সময় ধরে আফগান শরণার্থীদেরকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এমনকি ইরানি নাগরিকদের মতোই কোনো বৈষম্য ছাড়াই তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সংকট কবলিত প্রতিবেশী এই দেশটিতে মানবিক সহায়তার বিষয়ে ইরান কখনোই কুণ্ঠাবোধ করেনি।

গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্বের ফলে সেদেশে একদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক থেকে ক্ষেত্রে যেমন বিপর্যয় ঘটেছে তেমনি মার্কিন সমর্থনপুষ্ট উগ্র দায়েশ বা আইএস জঙ্গি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরও বিস্তার ঘটেছে। আফগানিস্তানে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকায় লাখ লাখ মানুষ সেদেশের ভেতরে ও বাইরে শরণার্থী জীবন যাপন করছে। এ ছাড়া, মার্কিন আগ্রাসনে আফগানিস্তানের বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের এ দুর্দিনে ইরান লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এ ছাড়া ওই দেশটির অর্থনৈতিক সংকট নিরসন এবং বাণিজ্য সুবিধার জন্য ইরান তার চ'বাহার সমুদ্র বন্দর খুলে দিয়েছে যাতে আফগান জনগণের দুঃখ দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। 

প্রকৃতপক্ষে, তেহরান আফগানিস্তানের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ইরানের শান্তি ও নিরাপত্তা বলে মনে করে। এ কারণে আফগানিস্তানের সব দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ প্রক্রিয়ার প্রতি ইরানের সমর্থন রয়েছে এবং আফগান সংকট সমাধানের জন্য এ অঞ্চলের প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। এরই অংশ হিসেবে আজ তেহরানে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগান সমস্যা সমাধানে সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগে ইরানের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব মাহদি মাহমুদি আফগানিস্তান বিষয়ক অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি ড্যানিয়েল অস্লোপার এবং  তেহরানে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত লিন্ডেল সাশের সঙ্গে সাক্ষাতে আফগানিস্তান পরিস্থিতি এবং শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সাক্ষাতে ইরানের কর্মকর্তা মাহমুদি বলেছেন, কোনো বৈষম্য ছাড়াই ইরানে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করা প্রভৃতি নানানভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, শরণার্থীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা এমন একটি বিষয় যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ গ্রহণ খুবই জরুরি। তাই আফগান শরণার্থীদের সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে সকলের প্রত্যাশা যাতে আর বেশি আফগান শরণার্থী সমস্যা তৈরী না হয়। ইরানে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ হাই কমিশনারের প্রতিনিধি সিভাঙ্কা দানাপালা বলেছেন, ইরান ঐশী ধর্মের নির্দেশনা মেনে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে উঠে শরণার্থীদেরকে বাড়তি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

ইরান মনে করে কেবল তখনই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে যদি ওই দেশটির সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ইরানের প্রেসিডেন্ট তেহরান সফরকারী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, তার দেশ আফগানিস্তানে শান্তি  ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে তাই ইরানে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক সফল হবে বলে তেহরান আশা করছে। #                .

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন

ট্যাগ