অক্টোবর ২৮, ২০২১ ২১:২৯ Asia/Dhaka

ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি-কানি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি পাশ্চাত্য ফের লঙ্ঘন করবে না এবং অযৌক্তিক ও বেআইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে এমন নিশ্চয়তা চায় তেহরান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেলের চিফ অব স্টাফ এনরিক মুরার সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন।

বিগত বছরগুলোতে পাশ্চাত্যের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বেআইনিভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপের অনীহা ও গড়িমসির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দাবি হচ্ছে কার্যকরভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ দিতে হবে এবং যে সমঝোতাই হোক না কেন তাতে ইরানের প্রধান দাবি দাওয়া পূরণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

এনরিক মুরার সঙ্গে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতে আগামী নভেম্বর মাসে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ফের আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮মে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া এবং পরমাণু সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভিয়েনায় এ পর্যন্ত ছয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার নীতিতে অটল থাকায় ওই সব আলোচনা থেকে কোনো ফল বয়ে আসেনি।

যাইহোক, ইরানে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বের আলোচনার ফলাফল খতিয়ে দেয়া হয় যাতে পরবর্তী আলোচনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। ইরানের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, প্রতিপক্ষকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি পালনে আন্তরিকতার প্রমাণ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফরকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, 'নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া বিষয়ক আলোচনায় ইরান ফিরে আসবে কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না।'  তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে তাহলে ইরানও তার কথা রাখবে।

২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে ইরান বিরোধী নিষধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের ব্যাপারে দেয়া তাদের একটি প্রতিশ্রুতিও পালন করেনি। তারপরও ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাও প্রতিশ্রুতি পালনে ইরানের অবিচল থাকার কথা স্বীকার করেছে। ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চললেও একদিকে ইউরোপ ইরানের ব্যাংকিং সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অন্যদিকে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ইরানও পর্যায়ক্রমে নিজের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে।

এ অবস্থায় আগামী নভেম্বরে ফের যে পরমাণু আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে তাতে ইরান পাশ্চাত্যের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পালনের যে নিশ্চয়তা চেয়েছে তা যথার্থ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ