আগস্ট ০২, ২০২২ ১১:৩২ Asia/Dhaka
  • ইমাম হুসাইন (আ.)’র চিরঞ্জীব মহাবিপ্লব: মূল্যবান ও তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা

আসসালামু আলাইকুম, শোকাবহ মহররম উপলক্ষে রেডিও তেহরান বাংলা পরিবারের সকলকে জানাচ্ছি গভীর শোক ও সমবেদনা। গত ৩০ শে জুলাই (শনিবার) শোকাবহ মহররম উপলক্ষে ‘ইমাম হুসাইনের (আ.) চিরঞ্জীব মহাবিপ্লব’ শীর্ষক ধারাবাহিক আলোচনার প্রথম পর্ব শুনলাম। মূল্যবান, তথ্যসমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী আলোচনা থেকে নানা অজানা বিষয় জানতে পারলাম।

আসলে তথাকথিত বিভিন্ন ইসলামী সমাবেশ, আলোচনা সভায় এ ধরনের আলোচনা করা হয় না বা হলেও খুব সাধারণভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ইতিহাসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মহররমের চিরঞ্জীব মহাবিপ্লব ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ এবং এর দর্শন থেকে আমরা অনেক যোজন দূরে আছি। সেকারণেই আমরা কারবালার ঘটনাকে নিছক একটি ইতিহাসের ঘটনা হিসেবেই মনে করি। কিন্তু কীভাবে নবীর (সা.) উম্মতই নবীর (সা.) সন্তানকে হত্যা করতে পারে (!)? -এ প্রশ্নর উত্তর খোঁজা প্রতিটি বিবেকবান মানুষেরই উচিত।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিরোধানের মাত্র ৫০ বছর অতিক্রান্ত হতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় স্বয়ং রাসূল (সা.) কথিত উম্মত যারা রাসূল এবং তাঁর বংশকে ভালোবাসে বলে ধারণা করা হতো। যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত অব্যাহতভাবে যুদ্ধ করে গেছেন, তাদের পতাকাতলে দাঁড়িয়ে মুসলমানরা রাসূলের (সা.) সন্তানের উপর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। আসলে মক্কা বিজয়ের পর যখন চারদিকে ইসলামের জয়জয়কার, তখন ইসলামের ঐ চির শত্রুরাও বাধ্য হয়েছিল নিজেদের গায়ে ইসলামের লেবেল লাগিয়ে নিতে। তাই বলে ইসলামের সাথে তাদের শত্রুতার কথা ভুলে যায়নি। এ প্রসঙ্গে হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির বলেছিলেন- “তারা মুসলমান হয়নি, ইসলাম গ্রহণের ভান করেছিল মাত্র।”

আবু সুফিয়ান প্রায় ২০ বছর ধরে রাসূলুল্লাহর (সা.) সাথে যুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে শেষ ৫/৬ বছর সে ইসলামের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ও ফেতনা সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। আবু সুফিয়ানের পুত্র মোয়াবিয়াও তার পিতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের শত্রুতা করেছে। এভাবে আবু সুফিয়ানের দল তথা উমাইয়ারা ইসলামের চরম শত্রুতে পরিণত হয়। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হল, রাসূলুল্লাহর (সা.) ওফাতের মাত্র দশ বছর পরে সেই মোয়াবিয়াই ইসলামী শাসনযন্ত্রের শীর্ষে আরোহণ করে শাম বা সিরিয়ার গভর্নর হয়ে বসে। আরও বিশ বছর পরে হয়ে গেল মুসলমানদের খলিফা! আর রাসূলের (সা.) মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পর এবার মুসলমানদের খলিফা হল মোয়াবিয়া-পুত্র ইয়াজিদ। আর এই ইয়াজিদ নামায, রোযা, হজ্ব যাকাত তথা ইসলামের বিধি-বিধান পালনকারী মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে অর্ধ-শতাব্দী গড়াতে না গড়াতেই রাসূলের (সা.) সন্তানকে হত্যা করল!

শহীদদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন-"যদি মুহাম্মাদ (সা)-এর ধর্ম আমার শহীদ হওয়া ছাড়া টিকে না থাকে তাহলে, এসো হে তরবারি! নাও আমাকে।"

নিঃসন্দেহে কারবালার মর্ম বিদারী ঘটনা শিক্ষা ও গুরুত্বের দিক থেকে অনন্য। এটা এমন এক মহা-বিস্ময়কর ঘটনা, যার সামনে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষ বিশ্বের মহান চিন্তাবিদরা থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন; পরম বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছেন এই নজিরবিহীন আত্মত্যাগে। কারণ, কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের মহানায়করা ’অপমান আমাদের সয় না’-এই স্লোগান ধ্বনিত করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যায় নগন্য হওয়া সত্ত্বেও খোদায়ী প্রেম ও শৌর্যে শাহাদাতের ময়দানে আবির্ভূত হইয়েছিলেন। প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার বস্তুজগতকে পেছনে ফেলে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান। তারা নিজ কথা ও কাজের মাধ্যমে জগতবাসীকে জানিয়ে দিয়ে যান যে- ‘যে মৃত্যু সত্যের পথে হয়, তা মধুর চেয়েও সুধাময়।’

ইমাম হুসাইনের (আ.) চিরঞ্জীব মহাবিপ্লব নিয়ে মূল্যবান, তথ্যসমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করার জন্যে ধন্যবাদ। সবাইকে আবারও গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শেষ করছি। ওয়াসালাম-

 

এস এম নাজিম উদ্দিন

মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ