অক্টোবর ০২, ২০২২ ১১:৩৪ Asia/Dhaka
  • ‘বেতারের দর্পনে বিশ্বকে দেখার বিশ্বস্ত মাধ্যম হলো রেডিও তেহরান’

প্রিয় রেডিও তেহরান, হৃদয়ের অফুরন্ত ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ইরানের গুলবাগে ফোটা ফুলের রেণু যে বাতাসে আসীন হয়ে দূরদেশকে মোহিত করে চলেছে অবিরাম আপন সুবাসে, সে বাতাসের স্নিগ্ধ আবেশ হলো রেডিও তেহরান। সুললিত কণ্ঠে মার্জিত অনুষ্ঠানমালা শ্রাবণের ফল্গুধারা হয়ে হৃদয় থেকে হৃদয়ান্তরে বিজয়রথ হাঁকিয়ে চলছে তীব্র উচ্ছ্বাসে। তাই রেডিও তেহরানের ক্ষণমাত্র কৌতুহলী পরিদর্শকও শেষ পর্যন্ত এর নিয়মিত শ্রোতা না হয়ে পারেন না।

বেতার খুব সেকেলে! এ কালে তার জীবনবায়ু নির্বিঘ্ন রাখতে হলে আধুনিকতার বিবর্তনের মাধ্যমেই তা করতে হবে। রেডিও তেহরান বিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছে বলেই আমি মনে করি। এই কারণেই বেতার মাধ্যমটি সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। আধুনিক জীবনের অকারণ ব্যস্ততায় সবকিছু মিলি, মাইক্রো থেকে ন্যানো সংস্করণে প্রবর্তিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানসমূহ, বিশেষ করে বিশ্বসংবাদের উপস্থাপন সংক্ষিপ্ত, তবে খর্বিত নয়। সংক্ষিপ্ত বলতে গভীরতায় নয়, বলছি পরিমাপে। যতোটুকু প্রয়োজন, ঠিকই ততোটুকুই। অর্থাৎ অসম্পূর্ণ নয়, বরং পর্যাপ্ত। বিশ্বের সাথে আপন যোগাযোগ, একইসাথে নির্মোহ বিশ্লেষণ আমার অনেক ভালো লাগে শুনতে। বেতারের দর্পনে বিশ্বকে দেখার বিশ্বস্ত মাধ্যম হলো রেডিও তেহরান। দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠান তাই আমার সবচেয়ে প্রিয়। এই অনুষ্ঠানে দৃষ্টি দিয়ে বিশ্বকে দেখার নতুন ও বিশ্বস্ত দৃষ্টি লাভ করতে পারি।

সংবাদ উপস্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো চমকপ্রদ তথ্য ও অসাধারণ উপস্থাপনায় সুস্থ রুচির পরিমল ধারা সৃষ্টি করতে অবদান রাখছে। রুচিশীল ব্যক্তিমাত্রই এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো শুনতে বারবার রেডিও তেহরানে ফিরে আসবে। স্বাস্থ্যকথা শুনে নিজের বহিরাঙ্গের প্রতি যেমন যত্নবান হওয়া যাচ্ছে, একইসাথে আত্মার যত্ন নিতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান বিতরণে কার্পণ্য নেই অনুষ্ঠানমালায়। আমি খুব বেশি প্রভাবিত হয়েছিলাম ‘পারস্যের প্রতিভা বিশ্বের গর্ব’ অনুষ্ঠানের পর্বগুলো শুনে। আর্কাইভ থেকে কিছু এপিসোড আমি ততোধিকবার শুনেছি। স্বজাতির সোনালী অতীত আমাকে বরাবরই সম্মোহিত করে। ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানিদের অবদান’ জেনে আমার মনে হয় এ তো আমাদেরই কৃতি পূর্বজন। তাদের দেখানো পদচিহ্ন ধরে চলার আহ্বান রেডিও তেহরানে বারবার পেয়েছি। 

শিশু-কিশোরদের জন্য সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘রংধনু আসর’ সম্পর্কে সন্দেহাতীতভাবেই বলতে পারি, এটি সকল বয়সী শ্রোতার কাছেই খুবই প্রিয়। মনের ভেতরে সবারই একটা দুরন্ত কৈশোর-স্মৃতি সদা জাগ্রত থাকে। রংধনু আসর মানবমনের স্মৃতির সেই সুপ্ত জায়গাকে স্পর্শ করতে পেরেছে বলেই হয়তো এমনটি ঘটে থাকে। আসরের গল্পগুলো শিক্ষণীয়, একইসাথে উপভোগ্য। ধর্মীয় পূণ্যজন বা জ্ঞানতাপস বিজ্ঞানীদের গল্পগুলো মানস গঠনে ফলদায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সু-অভ্যাস তৈরি করে। বেশকিছু গল্প আমি অন্যদেরও শুনিয়েছি। সবাই শ্রুতিমুগ্ধ! বিশেষ দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো, যেমন: কাজী নজরুল ইসলামের জন্মতিথির অনুষ্ঠান খুব ভালো ছিল। ইসলামী গান ও কবিতাও অনবদ্য হয়। সাহিত্য চর্চায় ইরানিদের আগ্রহ সুপ্রাচীন। রেডিও তেহরানে শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আরও কাজ হোক, এই আমার প্রত্যাশা।

ইরান ভ্রমণ’ অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে না বললেই নয়। পারস্যের পথে-প্রান্তরের কিংবা নগরে-বন্দরের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দর্শন (অন্তর্জালে) কিংবা শ্রবণ (বেতারে) আমার পর্যটক মনকে আন্দোলিত করে। যদি পারতাম তবে রবীন্দ্রনাথের মতো বারবার বেরিয়ে পড়তাম পারস্যভূমির সৌন্দর্য্য স্বচক্ষে অবলোকন করতে। তা যেহেতু এখনই সম্ভব নয়, সেহেতু আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইল এই ধরনের অনুষ্ঠান আরো আরো তৈরি করুন। 

রেডিও তেহরানের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে এর সাফল্যমণ্ডিত ভবিষ্যতের প্রার্থনা করি। রেডিও তেহরান যুগ যুগ বেঁচে থাকুক অসাধারণ অনুষ্ঠানের অবিরত তরঙ্গমালা উপহার দিয়ে। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আমিন।


ইতি

রেডিও তেহরানের প্রীতিমুগ্ধ

 

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

মিরের টেক, বোয়ালিয়া, রাজশাহী।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২

ট্যাগ