নভেম্বর ১৫, ২০২১ ১৯:৪৯ Asia/Dhaka

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক মহড়া এমন সময় বেড়েছে যখন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব মহড়া থেকে বোঝা যায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে অব্যাহত হুমকি ও নিজ নিরাপত্তা নিয়ে ইসরাইল খুবই চিন্তিত।

ইসরাইল গত অক্টোবরে ১২ দিন ধরে নাকাব মরুভূমিতে আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে যা শেষ হয় ২৮ অক্টোবর। ওই যৌথ মহড়ায় প্রায় এক হাজার সেনা, ৬০টির বেশি যুদ্ধ বিমান অংশ নিয়েছে। এই মহড়ার দুই সপ্তাহ পর গত বুধবার ১০ নভেম্বর থেকে আবারো ইসরাইল আন্তর্জাতিক পানিসীমায় নৌমহড়া শুরু করে এবং তা পাঁচ দিন পর্যন্ত চলে। এ মহড়ায় ইসরাইল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নিয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা মনে করেন, তাদের এসব সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় নিজের সামরিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থক প্রতিরোধকামী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে প্রধান হুমকি মনে করে ইসরাইল। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি চলমান এসব মহড়ার উদ্দেশ্য প্রতিরোধকামীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা করা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান অভিব কুখাবি বলেছেন, হুমকি মোকাবেলায় তাদের সেনারা কাজ করে যাচ্ছে এবং এসব হুমকি ইরান কিংবা ফিলিস্তিনি যাদের পক্ষ থেকেই আসুক না কেন তার শক্ত জবাব দেয়া হবে। তিনি এমন সময় এ কথা বললেন যখন এটা সবারই জানা আছে যে এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলো কখনই ইসরাইলের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালায়নি বরং ইসরাইলই সবসময় আগে হামলা চালিয়েছে। এ অবস্থায় ইসরাইলের সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য যতটা না প্রতিরোধ তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও শক্তি প্রদর্শন।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি 'জুলফিকার ১৪০০' এবং এর কিছুদিন আগে 'খাইবার বিজয়ী' নামে দুটি বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, ইসরাইলের সামরিক মহড়াগুলো ইরানের সামরিক মহড়ারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া মাত্র। ইসরাইলি দৈনিক ইয়াদিউত অহারনুত একজন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, আমেরিকা, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের যৌথ সামরিক মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে আমাদের শক্তি সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেয়া।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ইসরাইল আসলে এ অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করছে যাতে অন্য সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ সুগম হয়। আমিরাত ও বাহরাইন গত বছর সেপ্টেম্বর ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকিকরণের চুক্তি সই করে। ধারণা করা হচ্ছে, দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আরব দেশগুলো যতটুকু না উপকৃত হবে তার চেয় অনেক বেশি  উপকৃত হবে ইসরাইল। কেননা এতে করে ইসরাইল প্রতিরোধ শক্তিগুলোর মোকাবেলায় রাজতান্ত্রিক আরব সরকারগুলোকে কাছে পাবে।# 

পার্সটুডে /রেজওয়ান হোসেন/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ