নভেম্বর ২৫, ২০২১ ১৯:৫০ Asia/Dhaka

ব্রিটেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করার পর অস্ট্রেলিয়াও লেবাননের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার গতকাল লেবাননের হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারেন অ্যান্ড্রোজ হিজবুল্লাহকে হুমকি হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন ও ইজ্জাদ্দিন কাস্সাম ব্রিগেডকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ এনেছেন। ব্রিটেন গত শুক্রবার ফিলিস্তিনের হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করার  মাত্র এক সপ্তাহ পর অস্ট্রেলিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এ অবস্থান নিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া থেকে বোঝা যায় পাশ্চাত্য ও তাদের মিত্র দেশগুলো একযোগে পশ্চিম এশিয়ায় ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুথি সমর্থিত ইসলামিক স্যালভেশন সরকার জানিয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশহিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেন হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের সমন্বিত পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় এ দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের সমর্থক এবং এ কারণেই দখলদার ইসরাইল নির্বিঘ্নে ফিলিস্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পারছে। ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপের তীব্র  নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরাইলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই অস্ট্রেলিয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে পাশ্চাত্য ও তাদের মিত্র দেশগুলো এমন সময় এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে এ অবস্থান নিল যখন যে কোনো সময় প্রতিরোধ শক্তিগুলোর সম্ভাব্য অভিযানের কারণে দখলদার ইসরাইল প্রচণ্ড চাপ ও  আতঙ্কের মধ্যে থাকে। গত সপ্তাহে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের শাহাদাতকামী দু'টি অভিযানের পর ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ আরো জোরদার হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ফের ইন্তিফাদা গণআন্দোলন শুরু হতে পারে বলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা আতঙ্কিত।

লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার এমন সময় এ পদক্ষেপ নিল যখন লেবাননে নিরাপত্তা সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে এবং বর্তমান সরকারের অবস্থানও নড়বড়ে। এ অবস্থায় পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকার সমর্থন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ পদক্ষেপ লেবাননে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকাতো রাখবে না বরং দেশটির পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। আসলে পাশ্চাত্য ও তাদের মিত্রদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লেবাননে অস্থিরতা তৈরি করে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এভাবে হিজবুল্লাহকে কখনোই দুর্বল করা যাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলো কখনোই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নয় বরং তারাই ইসরাইলি সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং তারা এ অঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূলে বড় অবদান রেখেছে।#               

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ