জানুয়ারি ২৯, ২০২২ ১৮:০৭ Asia/Dhaka

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দারিদ্র-পীড়িত ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন ও বর্বর গণহত্যা অভিযান তীব্রতর হয়েছে। এ অবস্থায় ইরান জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনা এবং শলা-পরামর্শ জোরদার করেছে।

এইসব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

ওই টেলিফোন সংলাপে আবদুল্লাহিয়ান ইয়েমেনের বেসামরিক অঞ্চলে  সৌদি জোটের হামলা তীব্রতর হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে এ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি ইরানের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।

গত ২১ জানুয়ারি সৌদি জোট ইয়েমেনের বেসামরিক অঞ্চলে গণহত্যার যে তাণ্ডব চালিয়েছে তার অনৈতিক ও অমানবিক গভীরতা বিশ্ব-বিবেককে স্তম্ভিত করলেও জাতিসংঘ এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি আগ্রাসী জোটের ওই বর্বরতার জবাবে। ইরানের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সংস্থা এ বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ২১ জানুয়ারিতে ইয়েমেনের একটি কারাগারে সৌদি-জোটের হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়। জাতিসংঘ এখনও ওই হামলার কোনো কঠোর নিন্দা জানায়নি। 

ইয়েমেনের যুদ্ধ বিষয়ে ইরান সব সময়ই দেশটির জনগণের পক্ষে কথা বলে আসছে এবং আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ইরান ইয়েমেনের ওপর অমানবিক নানা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুদ্ধ-বিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করে। 

ইয়েমেনের ওপর হামলা জোরদার সেখানকার সংকট সমাধানে কোনো সহায়তা তো করবেই না, বরং যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিবে এবং এতে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটবে। কারণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশটির স্বাধীনচেতা জনগণ আঘাতের জবাবে পাল্টা আঘাত হানার নীতি অব্যাহত রাখবে। 

উল্লেখ্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সৌদি জোট ইয়েমেনের আবাসিক অঞ্চল ও বেসামরিক জনগণের ওপর ৮০০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের ওপর নির্বিচার হামলা ও অবরোধ অব্যাহত থাকায় দেশটির জনগণ এখন ওষুধ ও খাদ্যসহ মানবিক ত্রাণ সহায়তার আরও বেশি মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে। গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে নির্বিচার হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের বেশিরভাগ অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে আগ্রাসী সৌদি-জোট। বিমান, স্থল ও নৌ-অবরোধের কারণে দেশটিতে ত্রাণ সাহায্য পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে না।  

এ অবস্থায় ইয়েমেনে আগ্রাসন জোরদারের নীতি চলমান সংকটকে কেবলই তীব্রতর করবে এবং শান্তির পথকে আরও জটিল করে তুলবে।

সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, আমিরাতের ওপর ইয়েমেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের মারিব ও শাবু অঞ্চল থেকে আমিরাতি সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।    # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯ 

ট্যাগ