মে ১৮, ২০২২ ১৯:৫৫ Asia/Dhaka

মার্কিন বাধা ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও লেবাননের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন (ইসরাইল-বিরোধী) প্রতিরোধ-জোট যদিও এই জোটের প্রধান খ্রিস্টান শরিক দলটি আগের তুলনায় বেশ কম আসন পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের নেতৃত্বাধীন ফ্রি প্যাট্রিওটিক মুভমেন্ট (Free Patriotic Movement) নামক খ্রিস্টান জোটটি এবারের নির্বাচনে পেয়েছে ১৬টি আসন, অথচ আগের নির্বাচনে এই জোট পেয়েছিল ২৯টি আসন। এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির ৪১ শতাংশ ভোটার।

হিজবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারি জোট লেবাননি সংসদের ১২৮টি আসনের মধ্যে পেয়েছে ৬০টি আসন এবং এই জোটের বাইরের অন্য সব দল মিলে পেয়েছে ৬৮টি আসন। ক্ষমতাসীন জোট কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থন পাবে বলে আশা করছে। যদি তা সম্ভব হয় হিজবুল্লাহর জোট আবারও সরকার গঠনে সক্ষম হবে।                                                                         
গত রোববারে (১৫ মে) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইসরাইল-বিরোধী জনপ্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও এর সমমনা দল আমল আন্দোলন শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দকৃত ২৭টি আসনের সব ক'টিতেই জয়লাভ করেছে। গতবারের তথা ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ দু'টি দল পেয়েছিল ২৬টি আসন।

জানা গেছে হিজবুল্লাহকে এবারের নির্বাচনে ধরাশায়ী করতে মার্কিন সরকার, সৌদি, আমিরাতি ও ফরাসি সরকার চার কোটি ডলার খরচ করেছিল! কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছেন লেবাননি জনগণ তথা দেশটির ভোটাররা। হিজবুল্লাহর জোটের বিরোধী পশ্চিমাপন্থী ও আরব সেবাদাস সরকারগুলোর মদদপুষ্ট দলগুলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি তুলেছিল নির্বাচনী প্রচারণায়! 

এবারের নির্বাচনে সুন্নি সম্প্রদায়ের শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত সাদ হারিরির দল ফিউচার মুভমেন্ট ১৪টি নির্বাচনী আসন বর্জন করায় মাত্র ৬টি আসন পেয়েছে। আগের নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা ছিল ২০। সাদ হারিরির দল দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে সৌদিপন্থী লেবানিজ ফোর্স (ক্বুওয়াতাল লুবনানিয়্যাহ) পার্টি।  লেবাননের সাবেক খ্রিস্টান গেরিলা নেতা সামির জা'জার  নেতৃত্বাধীন এ দলটি এবার পেয়েছে ১৯টি আসন। আগের নির্বাচনে এ দলের আসন সংখ্যা ছিল ১৫।

লেবাননের সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয় সুন্নি সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত আসন থেকে যা নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছা এবার বেশ কঠিন হতে পারে। সামির জা'জা উগ্র নীতি অব্যাহত রাখলে ও বিদেশি শক্তির লেজুড়বৃত্তি করলে লেবাননে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্তি বাড়তে পারে। 

মোটকথা লেবাননের ২৪তম সংসদ নির্বাচনের পর সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। ঐতিহ্যবাহী পুরনো দলগুলো ও  প্রধান দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্য ও জোরালো হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৮ 
 

ট্যাগ