আগস্ট ১৬, ২০২২ ২০:৫৯ Asia/Dhaka
  • হিযবুল্লাহর ড্রোন
    হিযবুল্লাহর ড্রোন

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি বলেছেন, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে মুক্তিকামী বা স্বাধীনতাকামী জাতিগুলো যখন আধিপত্যকামী ও দাম্ভিক শক্তিগুলোর আগ্রাসনের মোকাবেলায় প্রতিরোধের পথ বেছে নেয় তখন তারা সফল হয় এবং তারা মর্যাদা ও স্বাধীনতা বা মুক্তি অর্জন করে। 

তিনি তেহরানে ঐতিহাসিক ১৪ আগস্ট তথা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে ৩৩ দিনের যুদ্ধে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহর ঐতিহাসিক বিজয়ের দিবসকে ইসলামী প্রতিরোধ দিবস হিসেবে উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক উৎসব অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। রায়িসি আরও বলেছেন, মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে যেসব সংকটের শিকার তার মোকাবেলায়, বিশেষ করে ফিলিস্তিন সংকট মোকাবেলার একমাত্র কার্যকর উপায় হল প্রতিরোধ।  

আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০০৬ সালের এই সময়ে ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাজেয় হওয়ার তথাকথিত দাবিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল ইসরাইলি সন্ত্রাস বিরোধী ও কিংবদন্তীতুল্য বীরত্ব-গাথা সৃষ্টিকারী লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহ। হিযবুল্লাহ এখন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আগ্রাসী শক্তি বিরোধী জোটগুলোর অন্যতম প্রধান অক্ষ। হিযবুল্লাহর বীর মুজাহিদদের হাতে রয়েছে এখন অত্যাধুনিক ড্রোন ও নিখুঁত বা প্রিসিশন গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যন্ত দক্ষ মুজাহিদ বাহিনী। এ আন্দোলনের নানা পাল্লার লক্ষাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। 

হিযবুল্লাহর যোদ্ধারা গত দশ বছরে সিরিয়ায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর মদদপুষ্ট বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচিত তাকফিরি গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতারও অধিকারী। তাই মুসলমানদের প্রথম কিবলা তথা আলআকসা মসজিদের শহর বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার অভিযানে নেতৃত্ব দিতেও পুরোপুরি সক্ষম হবে হিযবুল্লাহর মুজাহিদ বাহিনী। 

৩৩ দিনের যুদ্ধে বিজয়ের প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচিত ইরানের কুদস ব্রিগেডের শহীদ কমান্ডার কাসেম সুলায়মানি ও লেবাননের হিযবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার শহীদ ইমাম মুগনিয়ার মত বীরদের সন্ত্রাসী হামলায় হত্যা করে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তার সহযোগীরা যদি ভেবে থাকেন যে ইরান ও লেবাননে এখন আর এরকম বড় কৌশলবিদ নেই তাহলে তারা মারাত্মক ভুলের মধ্যে আছে।

সিরিয়ায় অভিজ্ঞতা অর্জন করা হিযবুল্লাহর নতুন কমান্ডাররা ইসরাইলকে বড় ধরনের শিক্ষা দেয়ার জন্য অধীর হয়ে আছেন। ইসরাইল তার দখলে থাকা লেবাননের শেবা কৃষি খামারের দিক থেকে অথবা ভূমধ্য সাগরের গ্যাসফিল্ড থেকে আগ্রাসী তৎপরতা চালানোর মত সামান্যতম ভুল করলেই অবৈধ ইসরাইলের অস্তিত্বের অবসান ঘটানোর জিহাদ শুরু করবে হিযবুল্লাহ। ইসরাইলের পতন তার পরমাণু অস্ত্র, পশ্চিমা শক্তিগুলোর মদদ ও আরব সেবাদাস রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সেবাযত্নও ঠেকাতে পারবে না। অব্যাহত মার্কিন অর্থ ও অস্ত্রের প্রবাহও ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্ব রক্ষার গ্যারান্টি হতে সক্ষম নয়।

উল্লেখ্য ২০০৬ সালের জুলাই-আগস্টের যুদ্ধে ইসরাইল প্রথমে দশ হাজার সুসজ্জিত সেনা নিয়ে লেবাননে হামলা চালায় এবং এরপর শেষের দিকে রনাঙ্গনে তার সেনাসংখ্যাকে ত্রিশ হাজারে উন্নীত করে। অথচ ৩৩ দিনের ওই যুদ্ধে হিযবুল্লাহর সেনা সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজারের চেয়ে কিছু বেশি! ইসরাইল নিজেই স্বীকার করে যে ওই যুদ্ধে তার ২০টি মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস হয় এবং ১২১ জন সেনা নিহত ও আহত হয় এক হাজার ২৪৪ সেনা।  ইসরাইলের একটি হেলিক্প্টার ধ্বংস ও একটি যুদ্ধ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইসরাইলি সেনাসূত্র স্বীকার করে। কিন্তু বাস্তবে ইসরাইলের আরও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ও হতাহতের সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি। #

পার্সটুডে/১৬
 

ট্যাগ