এপ্রিল ০২, ২০২০ ১৯:৫৬ Asia/Dhaka

মার্কিন সরকার আবারও দেশের বাইরে সামরিক হঠকারিতা চালানোর পাঁয়তারা করছে।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মার্কিন সরকারের ব্যাপক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার প্রেক্ষাপটে জনগণ ও সমালোচকদের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে ট্রাম্প টুইট-বার্তায় দাবি করেছেন, ইরান বা ইরানপন্থী ইরাকি দলগুলো ইরাকে মার্কিন সেনা বা স্থাপনার ওপর আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা করছে! গোয়েন্দা তথ্য ও অনুমান তার এ দাবির ভিত্তি বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেছেন, এ ধরনের কোনো হামলা ঘটলে ইরানকে খুবই কঠিন মূল্য দিতে হবে!

ট্রাম্প এমন সময় এই অভিযোগ তুললেন যখন পেন্টাগন সম্প্রতি ইরাকে নানা ধরনের উস্কানিমূলক সেনা-তৎপরতা জোরদার করেছে যা যুদ্ধ বাঁধানোর নতুন প্রচেষ্টারই লক্ষণ। ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স তথা পিএমএইউ বা হাশদ্‌ আশ শাব্‌য়ি নামের জনপ্রিয় আধা-সামরিক বাহিনীর নানা সামরিক শাখা ও অবস্থানের ওপর  খুব শিগগিরই মার্কিন হামলা হতে পারে বলে সম্প্রতি ইরাকি ও মার্কিন সূত্রগুলো খবর দিয়েছে।

ইরাকের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনের সদস্য করিম আলাভি সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার তথ্য রয়েছে ইরাক সরকারের কাছে। তার মতে সাম্প্রতিক মার্কিন তৎপরতাগুলোর মূল লক্ষ্য হল আদনান আয্‌যুরফিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী করা এবং ইরাকে মার্কিন বিরোধীদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরাকের জাতীয় সংসদ সেদেশ থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেয়ার আইন পাস করে রেখেছে অনেক আগেই। ওই আইন অনুযায়ী পয়লা এপ্রিলের মধ্যেই ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরাকে তিনটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে দেশটির আল আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদ ও কুর্দিস্তানের ইরবিলের মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এ দুই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরাকে মার্কিন ও তার মিত্র দেশগুলোর সেনা-ঘাঁটিতে হামলার কারণে বাগদাদ সরকারকে জানিয়ে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মার্কিন আঞ্চলিক সেনা কমান্ড ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও ইরাকে মার্কিন বিমান ও ড্রোনের গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রতি জোরদার হয়েছে।  হাশদ্ আশ শাবয়ির ওপর আসন্ন মার্কিন হামলাই এসব তৎপরতার লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা তেমন একটা সুরক্ষিত নয় সেসব ঘাঁটি থেকেই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়ে বেশি সুরক্ষিত ঘাটিতে নিয়ে আনা হয়েছে।

সম্প্রতি বাগদাদের উত্তরে তাজি নামক সেনা ঘাঁটিতে  হামলার এক ঘটনায় তিন মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা নিহত হয়। ওয়াশিংটন এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে ও মার্কিন বিরোধী শক্তি হাশদ্‌ আশ শাব্‌য়িকে দুর্বল করতে চায়। এ ছাড়াও ইরাকে যেকোনোভাবে মার্কিন সেনা-উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে চায় ওয়াশিংটন।  

এটা স্পষ্ট ইরাকে হাশদ্‌ আশ শাব্‌য়ি-বিরোধী তৎপরতাসহ মার্কিন সামরিক তৎপরতাগুলো ইরাকের সংসদে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ ও তা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।  হাশদ্‌ আশ শাব্‌য়ি বা পিএমইউ ইরাকের একটি বৈধ সামরিক বাহিনী হওয়ায় এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়াও হবে দেশটির আইন ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

এদিকে ট্রাম্প ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর কথিত সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় ইরানের হাত থাকার দাবি তুলে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার পথও খোলা রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরান এ ধরনের সম্ভাব্য হামলার কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়ায় এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্পের হুমকিতে ভয় পাওয়ার মত দেশ নয় ইরান।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে সামান্যতম ভুল করলেও তা হবে তাদের সর্বশেষ ভুল এবং ইরানের পাল্টা হামলা হবে এত বেশি ধ্বংসাত্মক ও কঠোর যে শত্রুরা অনুশোচনারও সময় পাবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নাকচ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, “ইরাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো প্রক্সি নেই বরং সেখানে আমাদের বন্ধু আছে।”

ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করলে গোটা পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

২০১৪ সালে ইরাকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ (আইএস) যখন সহিংসতা শুরু করে তখন ইরানই সর্বপ্রথম বাগদাদ সরকারের সহায়তায় এগিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ইরান সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়ে ইরাক সরকারকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পরাজয়ের পর আমেরিকা মূলত নাখোশ হয় এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান কারিগর ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে গত ৩ জানুয়ারি হত্যা করে। এরপর ইরান পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদে হামলা চালায়।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/২

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য