মে ২২, ২০২০ ১৬:৫৬ Asia/Dhaka
  • আজ বিশ্ব কুদস দিবস: ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে বেগবান হচ্ছে আন্দোলন

এ বছরের বিশ্ব কুদস দিবসে মার্কিন ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি'র বিরোধিতায় ফিলিস্তিনিরা আরো বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। অবৈধ ইহুদিবাদী অভিবাসীদের দ্বারা ফিলিস্তিন ভূখণ্ড জবর দখলের পর ৭২ বছর পার হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে ইসরাইল এমন কোনো অপরাধযজ্ঞ নেই যা তারা করেনি।

ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম, অর্থনীতি, ক্ষেত-খামার ও জনগণ কোনো কিছুই ইসরাইলি আগ্রাসনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। অবৈধ ইহুদিবাদী অভিবাসীদের হত্যা ও জুলুম নির্যাতনের কারণে ফিলিস্তিনিরা নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, পরিচিতি ও ধর্মকেও বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তারা ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের মাধ্যমে জনসংখ্যার কাঠামোয় ইহুদিদের পক্ষে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া বায়তুল মোকাদ্দাসকেও রাজধানী করে তারা ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে পুরোপুরো মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। 

বিভিন্ন দেশে ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী জীবন যাপন করছে। এদের একটা বিরাট অংশ এখনো শরণার্থী শিবিরে দিনাতিপাত করছে। গত সাত দশকে ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত  হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শহীদ ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। চলতি শতাব্দিতে গত দুই দশকে তিন হাজার ফিলিস্তিনি শিশু শহীদ, ১৩ হাজার শিশু আহত এবং ১২ হাজার শিশু ইসরাইলি জেলখানায় আটক রয়েছে। ইসরাইলের প্রকাশ্য অপরাধযজ্ঞ সত্বেও ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ মনে করেন, আপোশ আলোচনার মাধ্যমে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ কমিয়ে আনা সম্ভব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ষড়যন্ত্রমূলক 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' নামে যে বর্ণবাদী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তার অর্থ হচ্ছে প্রতিরোধের পথ ছেড়ে দিয়ে আপোশের পথ বেছে নিতে হবে ফিলিস্তিনিদেরকে। ইসরাইলে সরকার গঠনের ব্যাপারে নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাতে তারা আগামী জুলাইয়ের মধ্যে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় ফিলিস্তিন জবর দখলের বিষয়টি কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের বিষয় নয় বরং ইসরাইলের সব কর্মকর্তাই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চলে।

মাহমুদ আব্বাস 

এখন ধারণা করা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের আপোশকামী মহলটি এটা বুঝতে পেরেছে যে, ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতার করার দিন শেষ।

ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এখন থেকে তারা ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে করা সমস্ত চুক্তি আর মানবে না। তিনি আগের সব চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসারও ঘোষণা দেন। স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আশতিয়েও মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে অবিলম্বে ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য মাহমুদ আব্বাসের ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এটাও বুঝতে পেরেছে কিছু আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কারণেও ইসরাইল জর্দান নদীর পশ্চিম তীর দখলের সাহস দেখিয়েছে।

যাইহোক বিশ্ব কুদস দিবসকে সামনে রেখে স্বশাসন কর্তৃপক্ষ ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে করা সমস্ত চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার যে ঘোষণা দিয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে করে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম আরো জোরদার হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২

 

ট্যাগ

মন্তব্য