সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ ১৫:৩৯ Asia/Dhaka
  • ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত
    ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের একই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিবের বাগদাদ সফর এবং সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন ২৬ সেপ্টেম্বর দুদিনের জন্য তেহরান সফর এসে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এবং প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব কাদের নেজামী আজ বাগদাদে সফরে গিয়ে সে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুম্মে আনাদের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান স্পর্শ কাতর পরিস্থিতিতে ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর বিনিময়ের লক্ষ্য কি সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ধারণা করা হচ্ছে, এই সফর একদিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তার এবং অন্যদিকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমী গত জুলাইয়ে তেহরান সফরে এসে ইরানের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তিতে সই করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা। এছাড়া ফুয়াদ হোসেন তেহরান সফরে এসে আমেরিকার পক্ষ থেকে কিংবা ইরাকের ব্যাপারে মার্কিন নীতির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বয়ে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিবের ইরাক সফরের গুরুত্ব যতটা না সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ইরাকে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে কোন কোন মহল ইরাকের সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। ইরাকের সশস্ত্র বাহিনী সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে বলে কোন কোন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে। ইসলামী ইরান ইরাকের কূটনৈতিক এলাকায় শুধু যে হামলার নিন্দা করে তাই নয় একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ জাতীয় ঐক্য এবং বাগদাদ সরকারের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ গ্রুপগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপের প্রতি সমর্থন জানায়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন ইরাকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিরোধী কোনো কোনো মহল  কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালিয়ে কিংবা সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিরোধ বাধানোর মতো নানা ষড়যন্ত্র ও ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টির মাধ্যমে  অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন 'নুজবার' মহাসচিব শেখ আকরাম আলী কাআবি এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালানোকে সমর্থন করেনা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরাকের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করা ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কূটনৈতিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন মার্কিন কর্মকর্তারাই তাদের অনুচরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং অস্ত্রে সজ্জিত করে দূতাবাস এলাকার আশেপাশে হামলা চালাতে উস্কানি দিচ্ছে যাতে করে ইরাকের জনপ্রিয় প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইরাকের অভ্যন্তরে কোন কোন মহল কয়েকটি আরব দেশ ও পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় বাগদাদে সরকারের কাছে ইরানের ভাবমূর্তিও নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় ইরান ও ইরাকের কূটনীতিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সফর বিনিময় শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে এবং দু'দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮

ট্যাগ

মন্তব্য