অক্টোবর ১৭, ২০২০ ১৬:৩০ Asia/Dhaka

ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবি'র বিরুদ্ধে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন শীর্ষ নেতার অবমাননামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইরাকে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ইরাকের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর সমালোচনা করেছে এবং ক্ষুব্ধ জনতা রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে।

ইরাকের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা সম্প্রতি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপর হামলার ঘটনার জন্য হাশদ আশ-শাবিকে অভিযুক্ত করে বলেছেন বাগদাদ ও আরবিলে যেমন আইএস সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে তেমনি হাশদ আশ-শাবিও একই ধরনের হামলা চালাচ্ছে।

উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী দায়েশ বা আইএস ২০১৪ সালের জুনে নেইনাভা প্রদেশের রাজধানী মসুল দখল করে নিয়েছিল। আইএস সন্ত্রাসীদের ওই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাকের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এরপর ইরাকের শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ সিস্তানি জনগণকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়ে ফতোয়া জারি করেছিলেন। তার ওই নির্দেশেই হাশদ আশ-শাবি গঠিত হয়। হাশদ আশ-শাবি গঠিত হওয়ার পর ইরাকে দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইরাক আইএসমুক্ত হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। হাশদ আশ-শাবির এ বিজয়ের ফলে ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অবসান ঘটে। ইরাকের সবাই বিশ্বাস করে হাশদ আশ-শাবির আত্মত্যাগের কারণেই ওই দেশটি আইএস সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্ত হয়।

কিন্তু তারপরও ইরাকের কয়েকটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীসহ পাশ্চাত্যপন্থী রাজনৈতিক মহল হাশদ আশ-শাবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া অব্যাহত রেখেছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে হাশদ আশ-শাবি সংগঠন স্বাধীন নীতি অনুসরণ করার কারণে এবং ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। হাশদ আশ-শাবির এই ইতিবাচক ভূমিকাকে ইরাকের ভেতরের কিছু মহল, মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের শক্তিগুলো ও সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি আরব দেশ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।

হাশদ আশ-শাবিকে অবমাননা করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইরাকে যখন আইএস সন্ত্রাসীদের পতনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তখনও যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং ইরাকের অভ্যন্তরে তাদের সহযোগীরা কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য হাশদ আশ-শাবিকে অভিযুক্ত করেছিল।

ইরাকে সম্প্রতি পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেও হাশদ আশ-শাবির বিরোধীরা নানা মিথ্যা অপবাদ ও অপপ্রচার চালিয়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিল যাতে এই সংগঠন পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। কিন্তু হাশদ আশ-শাবির সমর্থন নিয়ে আল-ফাতাহ জোট পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভে সক্ষম হয়।

নতুন করে হাশদ আশ-শাবির বিরুদ্ধে এমন সময়ে অপপ্রচার ও অবমাননামূলক বক্তব্য দেয়া শুরু হলো যখন একদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে অন্যদিকে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকা ও সামরিক অবস্থানে হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও হাশদ আশ-শাবি এ ধরনের হামলার বিরোধিতা করেছে।

হুশিয়ার জিবারি

একসময় হায়দার আল-এবাদি সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এবং বর্তমানে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা হুশিয়ার জিবারির হাশদ আশ-শাবি বিরোধী বক্তব্য ইরাকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইরাকের বহু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অবমাননাকর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে কুর্দিস্তান এলাকাসহ ইরাকের নিরাপত্তা রক্ষায় হাশদ আশ-শাবির গঠনমূলক ভূমিকার বিষয়টি জিবারিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হাশদ আশ-শাবি ইরাকের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার কারণেই এ সংগঠনটি শত্রুর আক্রোশের শিকার হয়েছে। ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদির অনুগত আল-নুসরা জোটের শীর্ষ কর্মকর্তা জাসেম আল-আলিয়াভি আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হাশদ আশ-শাবির সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, শত্রুরা কখনোই চায় না এ ধরনের একটি দেশপ্রেমিক শক্তিশালী সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী ইরাকে থাকুক। কেননা শত্রুরা সবসময়ই ইরাকে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করছে#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭    

ট্যাগ

মন্তব্য