অক্টোবর ২১, ২০২০ ১৮:৪৫ Asia/Dhaka
  • অর্থ না পেলে ইয়েমেনে ত্রাণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে: জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতায় ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। অসম ওই যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিরীহ ইয়েমেনি হতাহত হয়েছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সামরিক, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চলতে থাকায় সেখানে যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার পরিণতির ব্যাপারে জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান যদি না আসে তাহলে এ বছরের শেষ নাগাদ ইয়েমেনের জন্য বরাদ্দকৃত সাহায্যের পরিমাণ কমে যাবে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, বাজেট ঘাটতির কারণে ইয়েমেনে মানবিক ত্রাণ-সাহায্য কার্যক্রম বলতে গেলে স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইয়েমেনে জাতিসংঘের ৪১টি কার্যক্রমের মধ্যে ১৬টি কার্যক্রম কমিয়ে আনা হয়েছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যদি প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান না আসে তাহলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অবশিষ্ট ২৬টি ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। এতোদিন ধরে ইয়েমেনে যে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছিল তাও যথেষ্ট ছিল না।

ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য জাতিসংঘ এ পর্যন্ত ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির অনুগত বাহিনী যুদ্ধ বন্ধের জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবের তোয়াক্কা না করে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে পাশ্চাত্যের প্রকাশ্য ও গোপন সাহায্য-সমর্থন যদি না থাকতো তাহলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট যুদ্ধ চালিয়ে যেত না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, পাশ্চাত্যের দেশগুলোর উচিত ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে সামরিক সহযোগিতার পরিবর্তে যুদ্ধ কবলিত ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসা। ‌

প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি ও ইতালিসহ ইউরোপের আরো বেশ কয়েকটি দেশ যদি সৌদি ও আমিরাতকে সামরিক সহযোগিতা দেয়া বন্ধ করতো তাহলে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটত। এ কারণে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারবারা ভ্যালি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধ ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

পাশ্চাত্যের যেসব দেশ সৌদি জোটকে সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে তারাই ইয়েমেনে মানবিক সাহায্যের বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চলেছে। এ কারণে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এর পরিণতি ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুবার দাবি করেছে তারা ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি চায়। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা কখনোই আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে পারেনি। তারা যদি সত্যিই ইয়েমেনে শান্তি চায় তাহলে তাদের উচিত সৌদি-আমিরাতকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করা যাতে দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটে। পাঁচ বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে গণহত্যা চালালেও পাশ্চাত্য এখনো তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১    

ট্যাগ

মন্তব্য