অক্টোবর ২৫, ২০২০ ১৯:৩৬ Asia/Dhaka
  • ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ-রফার প্রতিবাদ (ফাইল ফটো)
    ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ-রফার প্রতিবাদ (ফাইল ফটো)

দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে আরও একটি মুসলিম সরকারের আপোষ-চুক্তির বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনে অপরাধযজ্ঞ জোরদারে বর্ণবাদী ইসরাইলের দম্ভ ও ধৃষ্টতা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। 

সম্প্রতি পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ ও আগ্রাসন জোরদারের ঘটনাই এর প্রমাণ। বিশেষ করে নাবলুস শহরের কাছে সন্ত্রাসী ইসরাইলি সেনাদের নৃশংস হামলায় নিরপরাধ ফিলিস্তিনি কিশোর আমের আবদুর রাহিম-এর শাহাদাত এবং অনশনরত ফিলিস্তিনি বন্দি মাহির আলআখরাসের অবস্থা শোচনীয় হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব না দেয়ার ঘটনা অতীতের তুলনায় সন্ত্রাসী ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান ধৃষ্টতাকেই তুলে ধরছে। 

দুঃখজনকভাবে বর্তমানে আরব সংবাদ-মাধ্যমগুলো ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ খুব কমই তুলে ধরছে, বরং ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ-রফা সংক্রান্ত খবরগুলোই বেশি বেশি প্রচার করছে।

৪৯ বছর বয়স্ক ফিলিস্তিনি বন্দি মাহির আলআখরাসকে গত ২৭ জুলাই কোনো কারণ ছাড়াই বন্দি করে হানাদার ইসরাইলি সেনারা। প্রশাসনিক গ্রেফতার নামে কথিত এ ধরনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মাহিরসহ অন্য ফিলিস্তিনি বন্দিরা অনশন ধর্মঘট শুরু করে। ৯০ দিনের অনশনের ফলে মাহিরের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে এবং তিনি এরিমধ্যে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি তার সম্ভাব্য অন্তিম বক্তব্য বা ওসিয়তনামাও লিখেছেন। এতে তিনি মাতৃভূমির রক্ষকের ভূমিকা পালন করতে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মাহিরের এই বক্তব্যের পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো। ইসলামী জিহাদ আন্দোলনের সামরিক শাখা আলকুদস ব্রিগেড গণ-সমরসজ্জার ডাক দিয়েছে ও যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা এখন এটা বুঝে গেছে যে পাশ্চাত্যের সেবাদাস আরব সরকারগুলোর ওপর ভরসা করে কোনো লাভ নেই বরং ফিলিস্তিনিদেরকে নিজ সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করতে হবে। তাদের প্রতি আপোষকামী আরব সরকার ও মার্কিন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হল এ রকম যে, হয় ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ কর অথবা জাহান্নামে যাও! 

গত কয়েক মাসে ফিলিস্তিনি দল ও গোষ্ঠীগুলো বলেছে, প্রতিরোধই হচ্ছে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ মোকাবেলার একমাত্র ও সর্বোত্তম পথ। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ইসরাইল কেবলই শক্তির ভাষাকে শ্রদ্ধা করে শান্তির ভাষাকে নয়! ইসরাইলের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও স্বীকার করেছেন হামাস ও ইসলামী জিহাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবেলায় নেতানিয়াহু অক্ষম এবং এ অবস্থা আগামী ২০ বছর অব্যাহত থাকবে।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ বেড়ে যাওয়া থেকে এটা স্পষ্ট যে সম্প্রতি আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানের সঙ্গে ইসরাইলের যে সমঝোতা হয়েছে তাতে আরও কয়েকটি আরব সরকারও হয়ত এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে! কিন্তু তাদের এইসব সমঝোতা আসলে শান্তির সমঝোতা নয় বরং অশান্তি বাড়ানোরই সমঝোতা! #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।          

ট্যাগ

মন্তব্য