জানুয়ারি ০৪, ২০২১ ২০:৫৯ Asia/Dhaka

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে দেশটির ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

নাসরুল্লাহ তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী বৃহৎ শক্তির অন্যতম লক্ষ্য থাকে মিত্র শক্তিগুলোকে টিকিয়ে রাখা যাতে সবার নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষিত হয়। এতে কোন সন্দেহ নেই যে ইসলামি ইরান পশ্চিম এশিয়ায় আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং সমগ্র এই অঞ্চলে ইরান সমর্থক বহু মিলিশিয়া গ্রুপ গড়ে উঠেছে। নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান এবং এসব প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলো সদা প্রস্তুত। অর্থাৎ এ অঞ্চলে  ইরান ও  তার মিত্র শক্তিগুলো একে অপরের পরিপূরক।

সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় এবং লেবাননের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় গুলোতে ইসলামি ইরান কখনো লেবানন ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদেরকে ভুলে যায়নি এবং তাদের পাশে ছিল।

হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাসরুল্লাহর বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি বলেছেন সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করে এ অঞ্চলে ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর কমান্ডাররা ধর্ম ও আল্লাহ তা'আলার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করাকে গৌরবের বিষয় বলে মনে করে।  প্রতিরোধ সংগঠনের কেউ যদি শহীদ হয় তাহলে প্রতিরোধ সংগঠন আরো বেশি বেগবান হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ আরো বলেছেন, এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলো শহীদ কমান্ডারদের উৎসর্গীকৃত জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা প্রতিরোধ সংগঠনকে আরও জোরদার করেছে আরও সতর্ক হয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, দখলদার ইসরাইলসহ এ অঞ্চলে তাদের কয়েকটি আরবমিত্র দেশ এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে প্রতিরোধ শক্তির কমান্ডারদের হত্যা করা তাদের কৌশলগত ভুল। এ প্রসঙ্গে নাসরুল্লাহ বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে তারা এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারবে কিন্তু তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ শাবির সাবেক উপপ্রধান আবু মাহদি আল মোহান্দেসের শাহাদাতের পরিণতিতে এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জোরদার হয়েছে।

হিজবুল্লাহ মহাসচিবের বক্তব্যে চতুর্থ যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে তিনি বলেছেন প্রতিরোধ শক্তির মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ইসরাইলের সঙ্গে রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কথা উল্লেখ করে নাসরুল্লাহ বলেছেন এভাবে তারা প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করতে পারবে না বরং প্রতিরোধশক্তি এ অঞ্চলে আরো বেশি জোরদার হবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪    

ট্যাগ